বিকাশ পাঁজি: ১৯৮৮ সালের কলকাতা লিগের ডার্বি! আমি ইস্ট বেঙ্গলের ক্যাপ্টেন। দলের দুই সেরা খেলোয়াড় কৃশানু ও চিমার চোট। আর প্রতিপক্ষে সুদীপ চ্যাটার্জি, প্রশান্ত ব্যানার্জি, শিশির ঘোষের মতো ফুটবলার। সবাই বলাবলি করছে, ইস্ট বেঙ্গলকে নাকি গুঁড়িয়ে দেবে মোহন বাগান। ঠিক করেছিলাম, মাঠেই জবাব দেব। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা ২-১ গোলে জিতি। প্রথম গোলটা আমার পা থেকেই। তখন কলকাতা লিগের রমরমাই আলাদা। বড় ম্যাচ হলে তো কথাই নেই! আর এখন লিগের ম্যাচে গ্যালারি খাঁ খাঁ করছে। দেখলে সত্যিই কষ্ট হয়।
ভালো ফুটবল হলে মাঠে কেন আসবেন না সমর্থকরা? অতীতে ক্রাউড পুলারদের জন্যই লিগ জমজমাট ছিল। তারকাদের দেখতে মাঠে আসত অনুরাগীরা। এখন তো বড় ক্লাবগুলি রিজার্ভ টিম খেলাচ্ছে। আমার মতে টিম একটাই হবে। সেখানে ৩০-৩৫ জনকে রেজিস্ট্রেশন করাক। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলাক। আর এখন লিগের বেশিরভাগ ম্যাচ জেলাতে হয়। এটাও জৌলুস কমার একটা কারণ। নৈহাটি, বারাকপুর, কল্যাণীর পরিবর্তে খেলা হোক ময়দানে। ‘তালতলা-বেলতলা’য় ফুটবল হয় না, হয় ধর্মতলায়। ইদানীং সবাই ‘ভূমিপুত্র, ভূমিপুত্র’ করছে! আমাদের সময় কী বাঙালি ফুটবলার উঠত না। লিগে বিদেশিরাও খেলুক। তাতে আকর্ষণ বাড়বে।
নিজের কথাই বলি। ছোট থেকে বড় ফুটবলারদের চোখের দেখা দেখতে ইস্ট বেঙ্গল, মোহন বাগান তাঁবুতে ঘোরাঘুরি করতাম। তখন থেকেই লিগে খেলার প্রবল বাসনা। ফুটবলার হিসেবে ময়দানে প্রথম পা রাখা মোহন বাগান জুনিয়রের হয়ে। তারপর জিমখানা হয়ে ১৯৮১ সালে সালকিয়ায়। সেটাই টার্নিং পয়েন্ট। তখনকার দিনে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে আমায় সই করিয়েছিল। সেই টাকায় আমার সাত মাস চলে গিয়েছিল। পরের বছর আমি, কৃশানু সহ কয়েকজন একসঙ্গে মোহন বাগানে সই করি। কৃশানু-বিকাশ জুটি পোক্ত হয় সবুজ-মেরুন জার্সিতেই। তারপর ১৯৮৫ সালে ইস্ট বেঙ্গল। বাকিটা আপনারা নিশ্চয়ই জানেন।