নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়া জেলা সদর লাগোয়া দিগসুঁই হোয়েরা পঞ্চায়েতে একটিও কমিউনিটি হল নেই। অভিযোগ, পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা বারবার আবেদন করার পরেও ওই কাজে একচুলও অগ্রগতি হয়নি। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের ছোটখাট সামাজিক উৎসবের জন্যেও অনেক টাকা খরচ করে বেসরকারি উৎসব ভবন ভাড়া করতে হয়। চুঁচুড়া-মগরা ব্লকের দিগসুঁই পঞ্চায়েতে একদিকে যেমন খেটে খাওয়া মানুষের বাস বেশি, তেমনই ওই এলাকাটি এসসি অধ্যুষিত। ফলে পঞ্চায়েতে একটিও কমিউনিটি হল না থাকায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি ও ব্যয় বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েতে একাধিক সরকারি জমি আছে। সেখানে সহজেই একটি কমিউনিটি হল করা যায়। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।
সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বীরেন্দু খাঁড়া। তিনি বলেন, একটি কমিউনিটি হল পঞ্চায়েতের একার টাকায় করা সম্ভব নয়। আমরা এনিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি প্রস্তাব তৈরি করে ব্লক প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে কোনও সবুজ সঙ্কেত মেলেনি। পঞ্চায়েতের মাজহারপাড়াতে একটি জায়গা চিহ্নিতও হয়েছিল। কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। পঞ্চায়েত কর্তাদের দাবি, বর্তমান সময়ে কমিউনিটি হল মানে শুধুই একটি উৎসব ভবন নয়। সেখানে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র তৈরি করা যায়। অনেক পঞ্চায়েতেই জেলা প্রশাসন বা জেলা পরিষদ তেমন প্রকল্প করেও দিয়েছে। কিন্তু কোনও অজানা কারণে দিগসুঁই গ্রাম পঞ্চায়েতে সেই প্রকল্প হয়নি।
এনিয়ে হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অবিলম্বে ওই বিষয়ে খোঁজ করে পদক্ষেপ করব। হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় অবশ্য কিছুটা অবাকই হয়েছেন। তিনি বলেন, পঞ্চায়েতে একটিও কমিউনিটি হল না থাকার বিষয়টি খুবই আক্ষেপের। এর কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদ মিলিতভাবে পদক্ষেপ করবে। বর্তমান সময়ে অনুষ্ঠান বাড়িকে কেন্দ্র করে বিপুল আয়ের সুযোগ থাকে। তাতে পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয় এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই চণ্ডীতলাতে জেলা পরিষদ ওইরকম মডেল অনুষ্ঠান বাড়ি তৈরি করেছে।
হুগলি জেলা সদরের কাছেই সদর ব্লকের অন্তর্গত দিগসুঁই-হোয়েরা গ্রাম পঞ্চায়েত। জেলার স্বাভাবিক উন্নয়নের ধারা সেখানে থাকলেও বহু বছর ধরে একটিও কমিউনিটি হল তৈরি করা যায়নি। এই নিয়ে বাসিন্দা মহলে ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।