Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সিকিমে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরানো নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা

গত চার-পাঁচ দিন ধরে নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। নতুন করে ধস নামছে নানা জায়গায়। কোথাও রাস্তা বন্ধ। কোথাও আবার ভেঙে পড়েছে আস্ত সেতু।

সিকিমে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরানো নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা
  • ২ জুন, ২০২৫ ১০:০৬

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত চার-পাঁচ দিন ধরে নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। নতুন করে ধস নামছে নানা জায়গায়। কোথাও রাস্তা বন্ধ। কোথাও আবার ভেঙে পড়েছে আস্ত সেতু। লাচেন থেকে ফেরার বিকল্প রাস্তায়ও ধস নেমেছে। লাচুং-গ্যাংটক রাস্তারও কমবেশি একই অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পর্যটনস্থলে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে কবে ফেরানো যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। লাচেন, লাচুং মিলিয়ে আটক পর্যটকের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। লাচুং থেকে চুংথাং পৌঁছনোর রাস্তায় ধস সরানোর কাজ চললেও লাচেনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। 

Advertisement

রবিবার মঙ্গনের পুলিস সুপার সোনম ডেচু ভুটিয়া বলেন, ‘লাচুংয়ে আটকে পড়েছেন ১২৭৮ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে দু’জন বিদেশি। লাচেনে আটকে পড়েছেন ১১২ জন দেশীয় এবং চার বিদেশি পর্যটক। লাচেন থেকে ফেরার মূল রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই পথে একটি সেতু ভেঙে গিয়েছে। বিকল্প রাস্তার অন্তত আট জায়গায় বড় ধস। এদিন ওই রাস্তা থেকে ধস সরানোর চেষ্টা হলেও প্রবল বৃষ্টিতে কাজ ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি যা, তাতে লাচেনের মূল রাস্তা ও সেতু মেরামত করতে অন্তত ১০-১২ দিন সময় লেগে যাবে।’ তিনি জানান, লাচুংয়ের রাস্তাতেও ধস রয়েছে। মঙ্গন ও চুংথাং সংযোগকারী ফিদাং বেইলি ব্রিজের একাংশ ভেঙে পড়েছে। সেটি মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। নতুন করে ধস না নামলে লাচুংয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের ফেরানোর চেষ্টা শুরু হবে সোমবার সকাল থেকে। 
উত্তর সিকিমের লাচেন ও লাচুংয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের সিংহভাগই পশ্চিমবঙ্গের। অভিযোগ, খাবার ও পানীয় জল পেতে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা। এখনও অনেক জায়গা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি মোবাইল পরিষেবাও। মঙ্গনের পুলিস সুপারের অবশ্য দাবি, হোটেলগুলিতে সাধারণভাবে তিন-চারদিনের খাদ্যসামগ্রী মজুত থাকে। এর মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সরকারের গোডাউনে মজুত খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হবে। মঙ্গনের ডিস্ট্রিক্ট প্রোজেক্ট অফিসার কর্ম দর্জি বলেন, ‘চুংথাং থেকে লাচেনের পথে রাবম সেতু পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ওই রাস্তা ঠিক করতে সময় লাগবে। তাছাড়া, তিস্তার স্রোতে উত্তর সিকিমে সাংকালান সেতুর নির্মীয়মাণ অংশ ভেঙে পড়েছে। তিস্তার জলস্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় এদিন বাংলা-সিকিম সীমানার কাছে মেল্লিতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়। সিকিমের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, আজ, সোমবার থেকে উত্তর সিকিমে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও হাল্কা থেকে মাঝারি বর্ষণ চলবে।  উত্তর সিকিমের মুন্সিথাংয়ের কাছে খাদে গাড়ি পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ আট পর্যটকের হদিশ মেলেনি এখনও। তাঁদের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলার এক নবদম্পতিও রয়েছেন। ৪ মে বিয়ের পর তাঁরা হানিমুনে এসেছিলেন। মঙ্গনের পুলিস সুপারের দাবি, তল্লাশি জারি আছে। বৃষ্টি এবং তিস্তার জলস্তর অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। 
এদিকে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টো পর্যন্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সানতালি, লিকুভীর ও মেলি এলাকায় বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ