


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভিষেকের বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি-সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে যে তালিকা সামনে এসেছে, তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করল তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হল, বিজেপির তরফে অভিষেকের সম্পত্তির একটি তালিকা তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা ভিত্তিহীন। তবে বকেয়া সম্পত্তি কর চেয়ে অভিষেকের বিভিন্ন ঠিকানায় নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। বুধবার সম্পত্তি কর মূল্যায়ণ ও রাজস্ব বিভাগের তরফে অভিষেক এবং তাঁর পরিবারের ১৭টি ঠিকানায় নোটিস ধরানো হয়েছে। সেই সমস্ত ঠিকানায় পরিবারের সদস্যদের বাইরে কারা তা অকুপাই করে রয়েছেন, সেই ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে মালিকপক্ষের কী চুক্তি রয়েছে, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির চরিত্র বদল করা হয়েছে কি না, তার নথিপত্র চাওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নামে বেশ কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। নিয়ম বহির্ভুতভাবে সেগুলি তৈরি বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার একটি নোটিস ঘিরে আলোচনার পরিধি আরও বেড়েছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে বুধবারতৃণমূলের তরফে একটি বিবৃতি জানানো হয়, বিজেপি থেকে একটি তালিকা ছড়ানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাহীন। তালিকায় যে সমস্ত ঠিকানাগুলি দেওয়া হয়েছে, সেখানে গিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে। যে প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ওই তালিকাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই তালিকার সঙ্গে বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নেই। অভিষেকের সম্পত্তির তথ্য নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া আছে। যে কেউ তা দেখতে পারেন। ওই নোটিস সম্পর্কে কিছুই জানা নেই বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, এই নোটিস আমার এক্তিয়ারে নেই। আমার সঙ্গে এই নোটিসের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি কোনো ইজারা নিইনি। যাঁর সম্পত্তির বিষয়ে এই নোটিস, সংশ্লিষ্ট সেই ব্যক্তিই যাবতীয় উত্তর দিতে পারবেন। অভিষেকের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষের দমদমের সেভেন ট্যাঙ্কস রোডে সম্পত্তি রয়েছে বলে খবর রটেছে। যা নিয়ে সায়নী তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, আমি জানি না সম্পত্তির তালিকায় নাম থাকা সায়নী ঘোষ কে? আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে! তবে এদিন সকালে কুণাল ঘোষও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, এটা দলের বিষয় নয়। অভিষেকই তাঁর সম্পত্তির বিষয়ে তথ্য দিতে পারবেন।
পরে বিকেলে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয় কিছুটা ‘বিদ্রোহী’ হয়ে ওঠা বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে। তাঁদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন অভিষেক। দলের বর্তমান অবস্থা, আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে ‘মন খুলে’ কথা হয়েছে বলে খবর। যে কারণে দলের তরফে সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘তৃণমূল কংগ্রেস একটি গণতান্ত্রিক দল। যেখানে প্রতিটি কর্মী-সদস্য নিজের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পান।’