নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যবসার নাম শুভবিবাহ। এবছরের শেষ দু-মাস, অর্থাৎ নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে দেশে যে বিপুল সংখ্যক বিয়ের অনুষ্ঠান হবে, সেখানে ব্যবসা হতে পারে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ কোটি টাকার! একটি সমীক্ষায় এমনটাই জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সর্বভারতীয় সংগঠন কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স। তাদের বক্তব্য, আসন্ন বিয়ের মরশুমে চার হাত এক হওয়ার সামাজিক অনুষ্ঠান হতে পারে প্রায় ৪৬ লক্ষ। সেই তালিকায় বিয়ের অনুষ্ঠান, রিপেসশন ও অন্যান্য পারিবারিক অনুষ্ঠানও আছে।
বর্ষার শেষলগ্ন থেকে বিয়ের মরশুমে ভাটা পড়ে। ফের নভেম্বর মাস থেকে আবার পূর্ণোদ্যমে শুরু হয় বিয়ের জাঁকজমক। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে বিয়েতে ব্যবসা হয়েছিল ৫ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকার। ইতিমধ্যে চরম মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতি ক্ষেত্রে খরচ বেড়েছে বহুগুণ। ফলে আর্থিক লেনদেনও বাড়বে অনেক বেশি। ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশনের নোটিশ এবং বিভিন্ন অডিটোরিয়াম, হোটেল, গেস্ট হাউস, রিসর্ট, ডেস্টিনেশন প্রপার্টির বুকিং অনুযায়ী এই সময়কালে প্রায় আধ কোটি ছুঁই ছুইঁ অনুষ্ঠান হবে। দাবি করেছে সিএআইটি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। যদিও ভারতের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে এই পরিসংখ্যান যে চূড়ান্ত নয়, তা বলাই বাহুল্য। গয়না থেকে বস্ত্র, বাড়িভাড়া থেকে পরিবহণ, ভোগ্যপণ্য থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, হোটেল ব্যবসা থেকে সাধারণ বিমান, ট্রেন, চার্টার্ড ফ্লাইট বুকিং, খাদ্য ও বিনোদন, উপহার ইত্যাদি ব্যয়ের বহর যে যথেষ্ট চমকে ওঠার মতো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সমীক্ষা বলছে, শুধুমাত্র দিল্লিতেই হবে সাড়ে ৪.৮ লক্ষ বিয়ে। মোট খরচ হতে পারে ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কম বাজেটের বিয়ে, অর্থাৎ ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে মিটবে প্রায় ১০ লক্ষ বিবাহ। ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ, এদেশ থেকে বছরে গড়ে অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার বিদেশের মাটিতে বিয়ের আসর বসায়। তাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা মার খায়। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যে খরচপাতি হয়, তার প্রায় ৭০ শতাংশ দখলে রাখে পরিষেবা শিল্প। ৩০ ভাগ খরচ হয় কেনাকাটায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, বিদেশের মাটিতে বিয়ে হলে বিয়ের মোট খরচের অন্তত ৮০ শতাংশই সংশ্লিষ্ট দেশে হয়। অর্থাৎ ওই ব্যবসা হারায় দেশীয় সংস্থাগুলি। তাঁদের আর্জি, এই বিয়ের আসর বসুক এদেশেই। এর জেরে আরও শ্রীবৃদ্ধি হবে দেশীয় ব্যবসার।