নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামনের বৃহস্পতিবার বড়দিন। এ সময় সাধারণত কড়া ঠান্ডার আমেজ পায় কলকাতা। তবে এবছর যা পরিস্থিতি তাতে ধরে নেওয়া যায়, বড়দিনে কনকনে শীত পড়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামনের বৃহস্পতিবার বড়দিন। এ সময় সাধারণত কড়া ঠান্ডার আমেজ পায় কলকাতা। তবে এবছর যা পরিস্থিতি তাতে ধরে নেওয়া যায়, বড়দিনে কনকনে শীত পড়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
কলকাতার ঠান্ডার পথে ভিলেন হয়ে দাঁড়িয়েছে কাশ্মীর। সেখানে পরপর দু’টি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব পড়েছে। একটি ঝঞ্ঝা আছড়ে পড়েছে। অন্য একটি ধেয়ে আসছে। এর ফলে বাধা পাচ্ছে উত্তুরে হাওয়া। এই হাওয়া কলকাতাকে শীতল করে। শীতের আমেজ ছড়ায়। সে দুর্বল হতে শুরু করার ফলেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস বৃহস্পতিবার জানান, ‘২৫ ডিসেম্বর কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মাঝামাঝি থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ১৫ ডিগ্রির নীচে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামার আশা বিশেষ নেই।’ এছাড়াও ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কিছুটা বেশি থাকার সম্ভাবনা। এই সময়কালে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির আশপাশে থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। আঞ্চলিক অধিকর্তা অবশ্য জানিয়েছেন, ‘২৬ ডিসেম্বর থেকে তাপমাত্রা কমবে। বড়দিনের ঠিক পরে শীতের আমেজ বাড়বে। কতটা বাড়বে, তা দু-একদিনের মধ্যেই জানাবে আবহাওয়া দপ্তর।’
চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছে। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বুধবারের তুলনায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে হয়েছে ১৬.৭ ডিগ্রি। এ সময় স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রার থেকে তা ১.৬ ডিগ্রি বেশি। দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্রই এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মোটামুটি এক ডিগ্রি বেড়ে গিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে সবথেকে বেশি শীত ছিল বীরভূমের শ্রীনিকেতনে (১২.৪ ডিগ্রি)। বুধবারও সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রির আশপাশে ছিল। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের সব জায়গাতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ছিল বেশি। আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের উপর একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা অবস্থান করছে। পাকিস্তান-ইরানের উপর আরও একটি ঝঞ্ঝা রয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে সেটি কাশ্মীরের উপর চলে আসবে। তার প্রভাবে ২০ থেকে ২৩ ডিসেম্বর পশ্চিম হিমালয়ের কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে তুষারপাত ও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাঞ্জাবের সমতল এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা। এবছর শীতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা কম তৈরি হচ্ছিল। যে কয়েকটি ঝঞ্ঝা ধেয়ে এসেছে সেগুলি ছিল দুর্বল প্রকৃতির। তাই এখনও পর্যন্ত পশ্চিম হিমালয় এলাকায় প্রবল তুষারপাত হয়নি। উত্তর ভারতের সমতল এলাকাতেও ঝঞ্ঝার প্রভাবে বৃষ্টি হয়নি। এই দফায় যে দ্বিতীয় ঝঞ্ঝাটি কয়েকদিনের মধ্যে কাশ্মীরের উপর আসছে সেটি কিছুটা শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তাই কাশ্মীরে ভারী তুষারপাত ও পাঞ্জাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে।
প্রসঙ্গত পশ্চিমী ঝঞ্ঝা হিমালয় এলাকায় এলে উত্তুরে হাওয়া সক্রিয়তা হারিয়ে ফেলে। তার জেরে এই রাজ্যের দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সরে গেলে উত্তুরে হাওয়া সক্রিয় হয়। পাহাড়ে তুষারপাতের পর উত্তুরে হাওয়ায় শীতলতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তারপর নিম্নগামী হয় দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রার পারদ। এবছর তা হবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে। ফলে বড়দিন থাকবে শীতকালের তুলনায় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ। গত ১০ বছরে কলকাতায় ডিসেম্বরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রিতে নেমে আসার নজিরও আছে। এবছর এখনও পর্যন্ত ডিসেম্বরে কলকাতায় সবথেকে কম তাপমাত্রা ১৪.৫ ডিগ্রিতে নেমেছিল।