Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালের মতো ব্যস্ত শহরে নেই কোনও শৌচালয় কিংবা যাত্রীদের প্রতীক্ষালয়

ঘাটালের মতো ব্যস্ত শহরে নেই কোনও শৌচালয় কিংবা যাত্রীদের প্রতীক্ষালয়
  • ১৪ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঝাঁ চকচকে রাস্তা। বাসস্টপে দিনের মধ্যে ১৪ ঘণ্টাই লোক থিক থিক করে। অথচ সেই ঘাটাল শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম বাসস্টপগুলিতে কোনও শৌচাগার  নেই। নেই কোনও যাত্রী প্রতীক্ষালয়। ফলে সবচাইতে সমস্যায় পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা মহিলা যাত্রীরা। যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে প্রত্যেক দিনই আতান্তরে পড়ছেন। যাত্রীদের এই সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান তুহিনকান্তি বেরা। তিনি বলেন, বছর তিনেক আগে ওই জায়গায় শৌচাগার এবং যাত্রী প্রতীক্ষালয় সবই ছিল। রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য পূর্তদপ্তর সব ভেঙে দিয়েছে। এবার আমরা আবার যাত্রী প্রতীক্ষালয় এবং পুরুষ  ও মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচাগার তৈরির পরিকল্পনা করছি। পূর্তদপ্তরের কাছ থেকে জায়গা পেলেই তা করে দেওয়া হবে।

Advertisement

ঘাটাল শহরের মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বাসস্টপ ওই কলেজ মোড়, কুশপাতা বাসস্টপ এবং স্টেডিয়াম। কলেজে মোড়ে নেমেই ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়, পূর্তদপ্তরের ঘাটাল হাইওয়ে ডিভিশনের অফিস, ঘাটাল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল, ঘাটাল মহকুমা আদালত, ঘাটাল মহকুমা সেচ ও জলপথ দপ্তরের অফিস সহ নানা সরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। সেই সঙ্গে ওই কলেজ মোড় থেকেই হুগলি জেলার একাংশে এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একেবারে পূর্বপ্রান্তের গঞ্জ রানিচক যাওয়ার জন্য ‘ঘাটাল-রানিচক’ রাস্তাটি শুরু হয়েছে।
তাই অহরহ ওই বাসস্টপে অগণিত যাত্রীদের ভিড় হয়। ওই বাসস্টপে সম্প্রতি টিন দিয়ে একটি অস্থায়ী প্রতীক্ষালয় থাকলেও কোনও শৌচালয় নেই। ঘাটাল কলেজের পঞ্চম সেমেস্টারের ছাত্র বিনয় মণ্ডল, সুজিত সিংহ প্রমুখ বলেন, আমরা না হয় ওই বাসস্টপে নেমে কলেজের শৌচাগার ব্যবহার করে নিতে পারি। কিন্তু সেটা তো সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। বাসস্টপে শৌচাগার না থাকার জন্য মহিলারা ভীষণ সমস্যায় পড়েন। বাসস্টপ থেকে ১০০ মিটার দূরে বাড়ি কৃষ্ণা সামন্তের। ওই গৃহবধূ বলেন, কয়েক দিন আগে এক মহিলা আমার বাড়ির দরজায়  টোকা দিচ্ছিলেন। আমি দরজা খুলতেই তিনি প্রায় কেঁদে ফেলার উপক্রম। মহিলা ৫০ টাকার নোট বার করে ওই গৃহবধূকে তাঁদের বাথরুম ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করেন। কৃষ্ণা বলেন, আমি টাকা না নিয়েই তাকে তাড়াতাড়ি করে বাথরুমটা খুলে দিই। স্থানীয় দোকানদারেরা বলেন, এমন ঘটনা নাকি প্রায়ই ঘটে। মহিলারা বাস থেকে নেমে এদিক-ওদিক তাকান। কিন্তু শৌচাগার না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।
কুশপাতা এবং স্টেডিয়াম বাসস্টপে শৌচালয় এবং প্রতীক্ষালয় কোনওটাই নেই। প্রখর রোদে যাত্রীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়। কুশপাতা বাসস্টপের ট্রাফিক পুলিসরা জানান, রোটেশনে ডিউটির রেস্টের সময় তাঁদের সামনের প্রাণী চিকিৎসালয়ে গিয়ে রেস্ট নিতে হয়। সেখানেই প্রাকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয়। কিন্তু সেটা সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে করা সম্ভব নয়।
এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা যাত্রী প্রতীক্ষালয় এবং শৌচাগারের বিষয়ে বার বার পৌর প্রশাসনকে জানিয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি বলে অভিযোগ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ