নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: জলজ্যান্ত মানুষকে চোখের সামনে পুড়তে দেখেছেন অনেকেই। যাঁরা শুনেছেন কিংবা ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখেছেন, তাঁরাও শিউরে উঠছেন। শুধু মর্মান্তিক নয়, ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরও উত্তাপহীন সল্টলেক! সিগন্যালের সামনে রাস্তার উপর কোনও স্টপ লাইন নেই। ফলে, এগিয়ে গিয়ে যেখানে খুশি থামছে গাড়ি-বাইক। যে কোনও সময় আবার দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়দের কথায়, এতবড় দুর্ঘটনার পরও বৃহস্পতিবার রাস্তায় পুলিসি তৎপরতা তেমন চোখে পড়েনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মুখে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। রাস্তার ধারে এখনও পড়ে রয়েছে গাড়ি-বাইকের পোড়া যন্ত্রাংশ। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কীভাবে আগুন লাগল, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বছর তিনেক আগে কেষ্টপুর-সল্টলেক সংযোগের জন্য সল্টলেক ৮ নম্বর ব্রিজ চালু হয়। তার আগে ওই এলাকায় টি-জংশনের মতো তিনদিকের রাস্তা ছিল। এখন চারমুখী এলাকা। এ জে ব্লক থেকে এ কে ব্লকের দিকে যাওয়ার সরু রাস্তা এখন চওড়া হয়েছে। কারণ, ব্রিজ চালু হওয়ার জন্য গাড়ির চাপ বেড়েছে। কেষ্টপুর খাল থেকে ব্রিজে উঠে সল্টলেকে ঢোকার মুখেই রয়েছে সিগন্যাল এবং ট্রাফিক গার্ডের অফিস। সল্টলেক ঢোকার বাঁ দিকের অংশে দাঁড়িয়েছিলেন অ্যাপ বাইক চালক। তিনি সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিলেন। বুধবার বিকেলে সেখানেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। এ জে ব্লকের দিক থেকে একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে পরপর গাড়ি-বাইকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর গাড়িতে আগুন লেগে যাওয়ায় পুড়ে মারা যান অ্যাপ বাইক চালক। বিক্ষোভ, অবরোধ, পুলিসকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি, কাঁদানে গ্যাসের সেল মিলিয়ে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। এখনও রাস্তার ধারে সেই চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল গার্ডরেল দিয়ে ঘেরা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে দুর্ঘটনাস্থলে রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে যান নিয়ন্ত্রণ করে ট্রাফিক পুলিস। রাস্তার উপর স্টপ লাইন না থাকায় গাড়ি ও বাইক এগিয়ে গিয়ে যেখানে খুশি দাঁড়াচ্ছেন। পুলিসের দাবি, আগে স্টপ লাইন, রোড মার্কিং ছিল। রাস্তা সংস্কারের জন্য তা উঠে গিয়েছে। আবার তা করে দেওয়া হবে। তাছাড়া, ট্রাফিক সংক্রান্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাও চালু হবে।



