Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কান্দিতে পাঁচ টাকা কেজি দরেও কুমড়োর ক্রেতা নেই

কান্দিতে পাঁচ টাকা কেজি দরেও কুমড়োর ক্রেতা নেই
  • ৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: প্রতিবছর এসময় বিভিন্ন জুস কোম্পানির তরফে লরিভর্তি করে কুমড়ো কিনে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, এবার ওই সমস্ত কোম্পানির তরফে কেউ আসেনি। প্রচণ্ড গরমে গোরুকেও কেউ কুমড়ো খাওয়াচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে পাঁচ টাকা কেজি দরেও কুমড়ো বিকোচ্ছে না। চাষিদের থেকে কুমড়ো কিনে মজুত করে চরম সমস্যায় পড়েছেন কান্দি ও বড়ঞার ব্যবসায়ীরা। আমবাগান, বাঁশবাগানে পড়ে পড়ে পচছে লাখ লাখ টাকার মিষ্টি কুমড়ো। এত টাকার ক্ষতি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা মুষড়ে পড়েছেন। পচা কুমড়োর গন্ধে এলাকায় টেকাও দায়।

Advertisement

মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় সাতহাজার হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়োর চাষ হয়। বিশেষত কান্দি, বড়ঞা ব্লকে চাষিরা আলুর জমিতেই কুমড়ো চাষ করেন। এক থেকে দু’বার সেচ ও সামান্য পরিচর্যা দরকার হয়। উৎপাদিত ফসলের দামের প্রায় সবটাই লাভের অঙ্ক হিসেবে চাষিদের পকেটে ঢোকে। চাষিরা জানান, বিঘাপ্রতি ৪৫-৫০কুইন্টাল কুমড়োর ফলন হয়। চাষিরা জমিতেই বিঘা প্রতি দামে কুমড়ো বিক্রি করে দেন। এবার চাষিরা প্রতি বিঘায় ২০হাজার টাকা দাম পেয়েছেন। 
লাহারপাড়ার চাষি জটাধারী মণ্ডল বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে কুমড়ো চাষ করেছিলাম। বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছি। বেশিরভাগ চাষিই ফসল বিক্রি করে দিয়েছেন। কেউ কেউ দাম বৃদ্ধির আশায় তা বাড়িতে মজুত করে রেখেছেন। তবে জুস কোম্পানির লোকজন না আসায় মহা সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা কুমড়ো কিনে বাগান বা খামারে ঠান্ডা জায়গায় মজুত করেছেন। প্রতিবছর ভিনরাজ্য থেকে জুস কোম্পানিগুলি লরি লরি কুমড়ো কিনে নিয়ে যায়। এবার ফসল ওঠার মুখে কিছু কারখানা মালিক এলেও তারপর থেকে আর তাঁদের দেখা নেই। ফলে বিভিন্ন বাগানে ডাঁই করে কুমড়ো ফেলে রাখা হয়েছে। তালপাতা বা ত্রিপল দিয়ে ঢেকেও সেই কুমড়ো পচে যাওয়া বন্ধ করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন কুইন্টাল কুইন্টাল কুমড়ো পচে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী গণেশ মণ্ডল বলেন, ১৮-২০ হাজার টাকা বিঘা হিসেবে ১০০বিঘা জমির কুমড়ো কিনে মজুত করেছিলাম। কিছু বিক্রি করতে পেরেছি। বেশিরভাগটাই রয়ে গিয়েছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ব। বহু চাষি দাম বৃদ্ধির আশায় বাড়িতে কুমড়ো মজুত রেখেছিলেন। তাঁরাও সমস্যায় পড়েছেন। কুমড়ো চাষি নিরঞ্জন ঘোষ বলেন, ২০ কুইন্টাল কুমড়ো বাড়িতে এনে রেখেছি। পাঁচ টাকা কেজি দরেও কেউ তা কিনতে চাইছেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ