Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

হাতে-কলমে শেখানোর লোক কম, ধুঁকছে ঘরোয়া লিগ

দু’দিন আগেই লিগের ম্যাচে পুলিস এসি’র কাছে দু’গোলে হারল ইস্ট বেঙ্গল। অথচ ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের মধ্যে কোনওরকম তাপ-উত্তাপ নেই।

হাতে-কলমে শেখানোর লোক কম, ধুঁকছে ঘরোয়া লিগ
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ১৯:০৮
Prefer us on Google

স্বরূপ দাস: দু’দিন আগেই লিগের ম্যাচে পুলিস এসি’র কাছে দু’গোলে হারল ইস্ট বেঙ্গল। অথচ ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের মধ্যে কোনওরকম তাপ-উত্তাপ নেই। দিব্যি ইয়ারফোন গুঁজে বাড়ির পথে রওনা দিল। আমাদের সময় এসব কল্পনারও অতীত। ঘরোয়া লিগে হার তো দূরের কথা, বড় ক্লাবের জার্সিতে  ম্যাচ ড্র করলেও দু’দিন বাড়ি থেকে ঩বেরনো বন্ধ। এই চাপটা ছিল বলেই হয়তো ফুটবলার হিসেবে আজও লোকে মনে রখেছে। আর পাঁচটা বাঙালি ফুটবলারের মতো অপ্রধান ক্লাবের জার্সিতে ময়দানে পা রাখি। ১৯৮৪ সালে খিদিপুরের হয়ে অভিষেক। এরপরেই  জুনিয়র জাতীয় ক্যাম্পে সুযোগ মেলে। তারপর বিএনআর হয়ে ১৯৮৮ সালে সই করি ইস্ট বেঙ্গলে। সেসময় দলের দায়িত্বে ছিলেন পিকে ব্যানার্জি।  আজও মনে আছে, তখন প্র্যাকটিস শুরু হতো সকাল সাড়ে সাতটায়। আর ন’টায় প্রদীপদা মাঠ ছাড়তেন। প্রথমদিন তিনি চলে যেতেই ভাবি অনুশীলন শেষ। তখন ভাস্করদা আমায় ডেকে বলেছিল, ‘অনুশীলন এখনও শেষ হয়নি। আমি গোলে দাঁড়াচ্ছি। তুই শট নে।’ সবাই বলে আমার শুটিং পাওয়ার দারুণ ছিল। এই বাড়তি অনুশীলন আমার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করেছে। মনে আছে, ইস্ট বেঙ্গল জার্সিতে লিগের প্রথম ম্যাচের আগে মনাদা (মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য) বলেছিল, ‘আমি আছি। তোর কোনও চিন্তা নেই। শুধু নিজের খেলা খেলে যা।’ এখনকার ফুটবলারদের দুর্ভাগ্য তারা এমন সিনিয়রদের গাইডেন্স পেল না। বর্তমানে ফুটবলারের চেয়ে দলে কোচ আর সাপোর্ট স্টাফের সংখ্যা বেশি। তবে হাতে ধরে ফুটবল শেখানোর লোকের বড়ই অভাব।

Advertisement

এখন ঘরোয়া লিগে বাঙালি ফুটবলারের মান ক্রমশ তলানিতে ঠেকেছে। বেশিরভাগ দলই ভিনরাজ্যের খেলোয়াড়দের উপর নির্ভরশীল। আইএফএ’র নিয়মে ছয় ভূমিপুত্র খেলানো বাধ্যতামূলক। যারা খেলছে, তারা কি সত্যিই প্রিমিয়ারে খেলার যোগ্য? বলতে দ্বিধা নেই, এখন বেশিরভাগ ক্লাবেই চলছে কোটা সিস্টেম। যে কোচের হাতে যত বেশি ফুটবলার, সে তত ভালো ক্লাবের দায়িত্ব পাবে। এভাবে বাংলার ফুটবলের উন্নতি ঘটা অসম্ভব। শুধু তাই নয়, আইএফএ’র উচিত লিগের সময়টুকু খেপের মাঠে লাগাম টানা। আজ একটা ফুটবলার প্রিমিয়ার ক্লাবে সই করলেই খেপের মাঠে তার দর বাড়ছে। অথচ সেই ছেলেটাই লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছেড়ে ছুটছে খেপের মাঠে। এমন উদাহরণ অসংখ্য। তার জন্য সেই সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে ভুগতে হয়েছে। যেহেতু আইএফএ আমাদের পেরেন্ট বডি, তাই ঘরোয়া লিগের উন্নতি ঘটাতে হলে সবার আগে এই দিকগুলিতে নজর দিতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ