স্বরূপ দাস: দু’দিন আগেই লিগের ম্যাচে পুলিস এসি’র কাছে দু’গোলে হারল ইস্ট বেঙ্গল। অথচ ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের মধ্যে কোনওরকম তাপ-উত্তাপ নেই। দিব্যি ইয়ারফোন গুঁজে বাড়ির পথে রওনা দিল। আমাদের সময় এসব কল্পনারও অতীত। ঘরোয়া লিগে হার তো দূরের কথা, বড় ক্লাবের জার্সিতে ম্যাচ ড্র করলেও দু’দিন বাড়ি থেকে বেরনো বন্ধ। এই চাপটা ছিল বলেই হয়তো ফুটবলার হিসেবে আজও লোকে মনে রখেছে। আর পাঁচটা বাঙালি ফুটবলারের মতো অপ্রধান ক্লাবের জার্সিতে ময়দানে পা রাখি। ১৯৮৪ সালে খিদিপুরের হয়ে অভিষেক। এরপরেই জুনিয়র জাতীয় ক্যাম্পে সুযোগ মেলে। তারপর বিএনআর হয়ে ১৯৮৮ সালে সই করি ইস্ট বেঙ্গলে। সেসময় দলের দায়িত্বে ছিলেন পিকে ব্যানার্জি। আজও মনে আছে, তখন প্র্যাকটিস শুরু হতো সকাল সাড়ে সাতটায়। আর ন’টায় প্রদীপদা মাঠ ছাড়তেন। প্রথমদিন তিনি চলে যেতেই ভাবি অনুশীলন শেষ। তখন ভাস্করদা আমায় ডেকে বলেছিল, ‘অনুশীলন এখনও শেষ হয়নি। আমি গোলে দাঁড়াচ্ছি। তুই শট নে।’ সবাই বলে আমার শুটিং পাওয়ার দারুণ ছিল। এই বাড়তি অনুশীলন আমার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করেছে। মনে আছে, ইস্ট বেঙ্গল জার্সিতে লিগের প্রথম ম্যাচের আগে মনাদা (মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য) বলেছিল, ‘আমি আছি। তোর কোনও চিন্তা নেই। শুধু নিজের খেলা খেলে যা।’ এখনকার ফুটবলারদের দুর্ভাগ্য তারা এমন সিনিয়রদের গাইডেন্স পেল না। বর্তমানে ফুটবলারের চেয়ে দলে কোচ আর সাপোর্ট স্টাফের সংখ্যা বেশি। তবে হাতে ধরে ফুটবল শেখানোর লোকের বড়ই অভাব।



