Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জগদ্ধাত্রী প্রতিমার শোলার সাজেও থিমযুদ্ধ, রাস্তা দেখাচ্ছে চন্দননগরই

জগদ্ধাত্রী প্রতিমার শোলার সাজেও থিমযুদ্ধ, রাস্তা দেখাচ্ছে চন্দননগরই
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোতে বাঙালির উৎসব মরশুমের বৈভব যেমন আছে, তেমনই আছে বাড়তি আবেগ। এই শহরে থিমের জয়পতাকা উত্তোলনের সূচনা হয়েছিল কয়েকবছর আগেই। চন্দননগরের দেবী জগদ্ধাত্রী আড়েবহরে অনেকটা বড়। এখানে বিরাট আয়তন দেবীকে সাজানো হয় শোলা বা রাংতার সাজে। সেই সাজও আড়েবহরে হয় অনেক প্রশস্ত। দেবীর সাজকে কেন্দ্র করে থিমের লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে চন্দননগরে। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা, আলোকসজ্জার পথপ্রান্তর দখল করে এবার দেবীর সাজে পড়েছে থিমের ‘নজর’। থিম মানেই নতুনের সাড়ম্বর আকর্ষণ। ফলে গত কয়েক বছর ধরে দেবী জগদ্ধাত্রীর সাজসজ্জা আরও খোলতাই হতে শুরু করেছে। দর্শকের কাছেও খুলে গিয়েছে দেবীকে নতুনভাবে দেখার বাড়তি পরিসর। আর উদ্যোক্তাদের কাছে খুলে গিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বীকে টেক্কা দেওয়ার নতুন পথ। 

Advertisement

বিষয়টি নতুন করে চমকের জায়গা তৈরি করলেও শুরুটা হয়েছিল বেশ খানিকটা আগে। আগাগোড়াই চন্দননগরের দেবী সাজেন শোলার সাজে। দেবীর মুকুট থেকে পায়ের পাতা ছাড়িয়ে নামে বাহারি শোলার সাজ। কখনও কখনও দেবীকে আড়েবহরে শোলার সাজে সাজানোর প্রচেষ্টাও চন্দননগরে বিরল নয়। আর শোলার সাজের জন্য এখনও বাংলার পরিচিত বলয় বর্ধমান। পূর্ব বর্ধমানের বনকাপাশীর শোলার সাজই উদ্যোক্তা মহলে বেশি চর্চিত। জানা গিয়েছে, অতীতে শোলার সাজে নানা মোটিফ থাকত। কখনও মাঙ্গলিক চিহ্ন, দেবীর মুখ, এসব প্রচলিত ছিল। প্রায় প্রত্যেক বারোয়ারিতেই সেই সাজেই সাজতেন দেবী। নিপুণ সূক্ষ্ম শোলার কাজ, শোলার মধ্যে মিনেকারির আদল, এসবই ছিল সাবেক সাজের গড়ন। কিন্তু তারপর থিম সংস্কৃতির নজর পড়ে শোলার সাজে। ব্যস, সেই যে বদলাতে শুরু করে দেবীর সাজের গড়ন, তা আর থামেনি। উল্টে চন্দননগরের সাজে থিম নিয়ে বর্তমানে মারকাটারি লড়াই শুরু হয়েছে। পুরনো সেই দিনের কথা শোনাচ্ছিলেন বনকাপাশীর শোলাশিল্পী প্রসাদ ঘোষ। পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম হিসেবে প্রসাদবাবু শোলার কাজ করছেন। চলতি বছরে চন্দননগরের ২২টি জগদ্ধাত্রী পুজোর সাজ বানাচ্ছেন মধ্যবয়সি প্রসাদ। তার প্রায় ১৮টিই থিমের সাজ। প্রসাদ ঘোষ বলেন, আগাগোড়াই শোলার সাজে নানা মোটিফ থাকত। কিন্তু সেটিকে থিম নির্ভর করার প্রবণতা সামান্য কিছু বছর আগে। বাবা তখনও বেঁচে। একবার উদ্যোক্তারা বললেন, লালমোহনবাবু, এবার নতুন কিছু করুন। শোলার সাজে যে অলংকরণ হবে, তার একটি নির্দিষ্ট ধারা থাকুক। ফুল, বেলপাতার বাইরে কিছু ভাবুন। সেবারই প্রথম বাবা সমস্ত সাজকে একটি নির্দিষ্ট অভিমুখে নিয়ে আসার কথা ভাবলেন। আমরা থিমের সাজ তৈরি করলাম। প্রসাদবাবুর দাবি, সেটি ২০১৭ সাল হবে। চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, বছর পাঁচেক দেবীর সাজে থিম বিপুলভাবে প্রচার ও প্রসার পেয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই দেবীর সাজে মারকাটারি থিম করছে বারাসত ব্যানার্জিপাড়া। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, এবার আমাদের থিম অকালবোধন। চমকপ্রদ সাজ হবে। অকালবোধনের চমক যদি ব্যানার্জিপাড়ার হাতিয়ার হয়, তবে পঞ্চপাণ্ডব হাজির করছে মহাভারত। বাগবাজার চৌমাথা তাদের দেবীর সাজে আনতে চলেছে ফুলের বাহার। নারুয়ার সরকার পাড়ার থিম সৃষ্টি আর নারুয়ার বড় পুকুরধারের পুজোতে দেবী সাজছেন জগদ্ধাত্রী থিমেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ