নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রতিবছরই থিমে চমক দেয় বড়শুল জাগরণী। ভিড়ের নিরিখে বর্ধমান শহরের বহু পুজো মণ্ডপকেই পিছনে ফেলে দেয় এই পুজো। এবার বড়শুল জাগরণীর থিম ‘মাতৃ রূপেন সংস্থিতা’। মাতৃ শক্তি প্রস্ফুটিত হয়ে উঠবে এই মণ্ডপে। মেয়েরা অশুভ শক্তি বধে কীভাবে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে, সেটাই তারা দেখাতে চাইছে। পুজো প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। গত ২৮ জুন ধুমধাম করে খুঁটিপুজো করা হয়েছে। সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে দামোদর নদ থেকে ঘট ভরে আনা হয়। শক্তিগড় কালীবাড়িতে পুজো করে উদ্যোক্তারা বড়শুল জাগরণী ক্লাবে ফিরে আসে। তারপরই করা হয় খুঁটিপুজো। সেই সময় মহিলা সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
খুঁটি পুজোর আগের রাতে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নৈশ ফুটবল প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় উপচে পড়ে। ১৬টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। বড়শুল টোটাপাড়া রুসিকা এফসি ক্লাব জয়ী হয়। বর্ধমান গোল্ডেন ক্লাব দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। ক্লাবের সভাপতি পিন্টু পাল বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও আমাদের থিম দর্শকদের মন জয় করে নেবে। মাতৃশক্তি স্বরূপ মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হবে। সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস বলেন, খুঁটিপুজোর দিন থেকেই উৎসাহ, উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তারা বলেন, প্রতি বছর মণ্ডপ উদ্বোধনের পর থেকেই ভিড় উপচে পড়ে। তা সামাল দিতে উদ্যোক্তা এবং পুলিসকে নাজেহাল হতে হয়। এবারও তেমনটা হবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। খুঁটিপুজোর দিনও ক্লাবে সদস্য বা পুজো উদ্যোক্তা ছাড়াও অনেকেই সেখানে ভিড় করেছিলেন। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, শুদ্ধ মন্ত্রাচ্চারণ এবং মঙ্গলধ্বনিতে সেদিন থেকেই সেদিনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। রথযাত্রা থেকেই পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। কবে প্রতিমা আসবে, কবে মণ্ডপ তৈরির কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে জোরদার চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। মণ্ডপে ভিড় কেমন হবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে। পুজোর থিম ‘মাতৃ রূপেন সংস্থিতা’ নিয়ে সরগরম হচ্ছে বড়শুল।-নিজস্ব চিত্র