নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় চণ্ডীপাঠে চারিদিক মুখরিত হবে। নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় কার্যত এই দিন থেকেই পুজো শুরু হয়ে যাচ্ছে। মহালয়ার দিনই মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে উদ্বোধন হতে চলেছে ধর্মদা যুবক সঙ্ঘের দুর্গাপুজো। গ্রামের প্রত্যন্ত প্রান্তে এমন ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। গ্রামের গলি থেকে বাজার, সর্বত্র একটাই আলোচনা, আমাদের পুজো এবার মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই শুরু হবে! ধর্মদা যুব সঙ্ঘের এবারের থিম মায়াপুরের ইসকন মন্দির। বিশাল চত্বরজুড়ে তৈরি হয়েছে অনবদ্য মণ্ডপ। প্রতিটি খুঁটিনাটি সাজসজ্জায় রয়েছে শিল্পীর নিপুণ ছোঁয়া। দূর থেকে দেখলেই মনে হবে যেন সত্যিই মায়াপুরে এসে পড়েছি। চতুর্থীর দিন থেকেই মণ্ডপ খুলে যাবে দর্শনার্থীদের জন্য। ষষ্ঠী পর্যন্ত চলবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মণ্ডপ চত্বরেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাচ, গান, আবৃত্তি এবং নাটক মঞ্চস্থ হবে। যা দেখতে ভিড় জমাবে আশপাশের গ্রাম থেকে আসা মানুষজন। প্রতিবারের মতো এবার সরকারি অনুদান পেয়েছে এই পুজো কমিটি।
ক্লাবের সম্পাদক শঙ্করস্বামী ঘোষ বলেন, আমাদের পুজো এবার ৭৮ বছরে পা দিল। বাজেট আট লক্ষ টাকা। সরকারি সাহায্য পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি। প্রতিমা হবে ডাকের সাজের। চতুর্থী থেকে ষষ্ঠী টানা তিনদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে। ক্লাব সদস্য সঞ্জীব বল বলেন, এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের পুজোর উদ্বোধন করছেন। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। গ্রামের মানুষদের আনন্দ দিতে পারব, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ধর্মদা যুব সঙ্ঘের পুজোর ইতিহাসও সমান সমৃদ্ধ। বাড়ির দুর্গাপুজো হিসেবেই এর সূচনা হয়েছিল। তখন পুরো গ্রাম একসঙ্গে মেতে উঠত চারদিনের এই উৎসবে। কিন্তু, নানা সমস্যায় একসময় সেই পুজো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। গ্রামের মানুষ সেই পুজো বন্ধ হতে দেননি। তাঁদের ভালোবাসা আর উদ্যোগে বাড়ির পুজো রূপ নেয় বারোয়ারি পুজোয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশ স্বাধীন হয়।
আর সেই বছরই প্রতিষ্ঠিত হয় ধর্মদা যুবক সঙ্ঘ। সেই সময় তিন উদ্যমী ব্যক্তি শঙ্করকুমার দাস, উমাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঘনশ্যাম দত্ত ছিলেন ক্লাবের প্রাণপুরুষ। তাঁদের হাত ধরেই গ্রামে দুর্গাপুজোর নতুন অধ্যায় শুরু হয়। নাকাশিপাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে দুর্গাপুজোর আনন্দ ফিরিয়ে দিতে তাঁরা এগিয়ে এসেছিলেন। আজ সেই প্রচেষ্টা এক বিশাল উৎসবে রূপ নিয়েছে। শুধু দুর্গাপুজো নয়, এখানকার সরস্বতী পুজোও বিখ্যাত।