Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কালীপুজোয় থিমের লড়াই, বারাসতে তিরুপতি মন্দির, মধ্যমগ্রামে ফুটবলের ঐতিহ্য

বারাসতে কালীপুজো শুরু করেছিল রেজিমেন্ট ক্লাব। স্থানীয়রা সে কথাই বলেন। প্রতিবছরই এই ক্লাবের পুজো ঘিরে বিপুল ভিড় জমে।

কালীপুজোয় থিমের লড়াই, বারাসতে তিরুপতি মন্দির, মধ্যমগ্রামে ফুটবলের ঐতিহ্য
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বারাসতে কালীপুজো শুরু করেছিল রেজিমেন্ট ক্লাব। স্থানীয়রা সে কথাই বলেন। প্রতিবছরই এই ক্লাবের পুজো ঘিরে বিপুল ভিড় জমে। প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুজো ঘিরে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। দেশের বিখ্যাত মন্দিরগুলিকে থিম হিসেবে তুলে ধরে তারা। দর্শকদের উপহার দেয় রূপকথার জগৎ। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে। এবার তৈরি করছে তিরুপতি বালাজি মন্দির। দক্ষিণ ভারতের সে দেবালয়ে যান লক্ষ লক্ষ ভক্ত। সে মন্দিরের অনুকরণেই সাজছে রেজিমেন্ট ক্লাবের মণ্ডপ। সাদা পাথরের গঠন ও নকশা। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, দক্ষিণ ভারতের আত্মা এসে মিশবে বারাসতের বাতাসে। থাকছে চন্দনগরের আলোকসজ্জা। তার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠবে দেবতার মাহাত্ম্য। রেজিমেন্ট ক্লাবের পুজোর ভিন্ন পরিচয়ও আছে। এখানের মূর্তি নজর কাড়ে সকলের। ক্লাবের সদস্যরা বলেন, লক্ষ্য শুধু থিম নয়, মানুষকে আধ্যাত্মিক জগতে নিয়ে যাওয়াও লক্ষ্য। পুজো ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকাজুড়ে উৎসবের হাওয়া। মূল মন্দিরের স্থাপত্য ও রঙের সামঞ্জস্য রক্ষা করে প্যান্ডেল তৈরি করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন মেদিনীপুরের শিল্পীরা। ক্লাবের কর্মকর্তা মলয় ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের পুজো এবার ৬৯তম বর্ষে। এ পুজো সবথেকে প্রাচীন। নওপাড়ার কাছে জাতীয় সড়কে সন্ধ্যা নামলেই জমে ওঠে ভিড়। আলোয় ঝলমল করে চারপাশ। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন রেজিমেন্ট ক্লাবকে আলাদা করে তোলে।

Advertisement

অন্যদিকে মধ্যমগ্রামের বড় কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম মিলন চক্রের পুজো। প্রতিবার কালীপুজোর দায়িত্বে থাকেন পুরুষরা। এবার দায়িত্বে সুছন্দা ঘোষ ও মৌসুমী মুখোপাধ্যায়রা। এদের কেউ গৃহবধু কেউ চাকুরিজীবী। সংসার সামলে তাঁরাই শক্তিদেবীর আরাধনায় ব্রতী হয়েছেন। থিম ভাবনায় ফুটে উঠছে ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’। ফুটবল নিয়ে বাঙালির আবেগকে মণ্ডপসজ্জায় রূপ দিয়েছেন শিল্পী প্রভাস গোপ। মণ্ডপের শুরুতেই বড় আকারের গোল পোস্ট। দর্শনার্থীরা ঢুকবেন পোস্টের নিচ দিয়ে। ঢুকলেই ফুটবল মাঠ। চারদিকে গ্যালারি। পায়ের জাদুকর প্রয়াত কৃষাণু দে’র নামে প্যাভিলিয়ন। মণ্ডপজুড়ে অতীতের দিকপাল বাঙালি ফুটবলারদের ছবি। আছেন শৈলেন মান্না, পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনী গোস্বামী, রহিম নবি ও ভাইচুং ভুটিয়া। শিল্পী প্রভাসবাবুর কথায়, ‘ফুটবল মানেই বাঙালির কাছে আবেগ। সেই আবেগ ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের এই ভাবনা।’ উদ্যোক্তা সুছন্দা ঘোষ ও মৌসুমী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এ বছর প্রথম মহিলারা কালীপুজোর দায়িত্বে। অফিস, বাড়ি সামলে সকলে পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছি। কলকাতা লিগ, আইএফএ শিল্ড, ডুরান্ড কাপের সেই উন্মাদনা এখনও প্রত্যেক বাঙালির মনে। তাই এই ভাবনা। আশা করি মানুষের মন জয় করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ