নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একই কায়দা। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দরজার তালা ভাঙা। আলমারি লণ্ডভণ্ড। লকার ভেঙে চুরি স্কুল পরিচালনার ১০ হাজার টাকা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একই কায়দা। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দরজার তালা ভাঙা। আলমারি লণ্ডভণ্ড। লকার ভেঙে চুরি স্কুল পরিচালনার ১০ হাজার টাকা।
পর্ণশ্রী থানা এলাকার বেহালা বাণীতীর্থ গার্লস হাই স্কুলের পর এবার ‘ফটোকপি-ক্রাইম’ জগৎপুর রুক্মিণী বিদ্যামন্দিরে। বেহালা থানা এলাকার সেনহাটি বাজারের কাছে অবস্থিত স্কুলটি। দু’টি স্কুলের মধ্যে দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। একইভাবে বেহালার দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘরের আলমারি ভেঙে চুরির ঘটনায় কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি? তদন্তে নেমেছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। রাত পর্যন্ত দু’টি মামলার কোনও সুরাহা হয়নি বলে পুলিস সূত্রের দাবি।
জগৎপুর রুক্মিণী বিদ্যামন্দিরে গত বৃহস্পতিবার ক্লাসের পরে দোল উপলক্ষ্যে ছুটি পড়ে যায়। এরপর সোমবার সকালে স্কুলে পৌঁছে শিক্ষাকর্মীরা দেখেন, সদর দরজার তালা ভাঙা। ভিতরে ঢুকতেই দেখা যায় প্রধান শিক্ষক ও স্টাফ রুমের দরজার তালাও ভাঙা। দ্রুত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিতকুমার হাজরাকে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান শিক্ষাকর্মীরা। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ স্কুলে আসেন তিনি। সুজিতবাবুর বক্তব্য, স্কুলের স্টাফ রুমে ১১টি আলমারি রয়েছে। সব ক’টিই ভাঙা। লণ্ডভণ্ড সবকটি আলমারির নথিপত্র। তবে সেগুলিতে কোনও টাকা-পয়সা ছিল না।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, আমার ঘরে আরও একটি আলমারি রয়েছে। তার ভিতরে লকার রয়েছে। ঘরে গিয়ে দেখি, আলমারি ও লকার- দু’টিরই লক ভাঙা। লকারের ভিতরে স্কুলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০ হাজার টাকা চুরি গিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমার ঘরেই রয়েছে স্কুলে বসানো ১৫টি সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোল ইউনিট। দুষ্কৃতীরা সেই মেশিন থেকে হার্ড ডিস্ক খুলে নিয়ে চম্পট দিয়েছে। বেহালা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। ডিআইকেও ঘটনাটি নিয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, স্কুলে সিসি ক্যামেরা থাকলেও দুষ্কৃতীরা হার্ড ডিস্ক হাতিয়ে নেওয়ায় ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আততায়ীকে চিহ্নিত করা যায়নি। স্কুলের কোনও পরিচিত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। পুলিসের নজর এড়াতে সিসি ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক খোলা হয়েছে বলে অনুমান করছেন গোয়েন্দারা। তাই স্কুলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তা থেকে সন্দেহজনক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হবে। লালবাজার এক আধিকারিক বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবারের মধ্যেই দু’টি স্কুলে চুরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন।