Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উল্টোডাঙা থানার অদূরে ৯৮ লক্ষ টাকার দুঃসাহসিক চুরি, ঠাকুরঘরে বসেই ৪৫ মিনিট ধরে সোনা-হীরে ভাগ!

‘ঠাকুরঘরে কে?’ জানতেই পারল না গোটা পরিবার। ভোররাতে যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন উল্টোডাঙার ব্যবসায়ী পরিবার, তখনই নিঃশব্দ অপারেশনে সোনা-হীরের গয়না, নগদ মিলিয়ে কোটি টাকা লুট করল দুষ্কৃতীরা।

উল্টোডাঙা থানার অদূরে ৯৮ লক্ষ টাকার দুঃসাহসিক চুরি, ঠাকুরঘরে বসেই ৪৫ মিনিট ধরে সোনা-হীরে ভাগ!
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘ঠাকুরঘরে কে?’ জানতেই পারল না গোটা পরিবার। ভোররাতে যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন উল্টোডাঙার ব্যবসায়ী পরিবার, তখনই নিঃশব্দ অপারেশনে সোনা-হীরের গয়না, নগদ মিলিয়ে কোটি টাকা চুরি করল দুষ্কৃতীরা। ঘরে থাকা আলমারি থেকে মূল্যবান অলঙ্কার বের করে ঠাকুরঘরে চলল ভাগ-বাটোয়ারা। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সেই কাজ শেষ করে গা-ঢাকা দেয় দুষ্কৃতীরা। উল্টোডাঙা থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিস। খবর লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। 

Advertisement

পি-১৯৩ বিধাননগর রোড। উল্টোডাঙা থানা এলাকার এই বাড়িরই দোতলায় থাকে বাজাজ পরিবার। অভিযোগকারী শুভম বাজাজ একটি বেসরকারি কোম্পানিতে উচ্চপদে কর্মরত। তাঁদের  জামাকাপড়ের পারিবারিক ব্যবসাও রয়েছে। শুভমের বাবাই সেই ব্যবসা চালান। গৃহকর্তার বাবা-মা দু’জনেই অসুস্থ। ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়েছিলেন। ঘুমন্ত শুভম ও তাঁর স্ত্রীর ঘরেও এসি চলছিল। ভোররাতে বাড়িতে প্রবেশ করে দুষ্কৃতীরা। 
প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানিয়েছে, ঠাকুরঘরের জানলার গ্রিল খুলে ভিতরে ঢোকে দুষ্কৃতীরা। একতলার জানলায় এসির আউটডোর মেশিনে পা দিলেই ঠাকুরঘরের জানলার নাগাল পাওয়া যায়। ঠাকুরঘর পার করলেই প্রবীণ দম্পতির ঘর। করিডরের একদম শেষপ্রান্তের ঘরে থাকেন শুভম ও তাঁর স্ত্রী। প্রবীণ দম্পতির ঘরের ভিতরেই ছিল গয়না, নগদ ভর্তি আলমারি। সেটিকেই টার্গেট করে দুষ্কৃতীরা। চাবি ঝোলানো ছিল আলমারির পাশেই। আলমারি খুলে একের পর এক গয়নার বাক্স লুট করে অভিযুক্তরা। দু’টি ৩০ লাখি হীরের নেকলেস ছিল আলমারিতে। ছেলের বউয়ের গয়নাও ছিল শাশুড়ির আলমারিতে। পাশাপাশি ২ লক্ষ নগদও। 
পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ থেকে পুলিস জেনেছে, নগদ-গয়না চুরির পর নিয়ে যাওয়া হয় ঠাকুরঘরে। সেখানেই সব সোনার বালা, চেনের বাক্স, হীরের নেকলেসের বাক্স উদ্ধার করেছে পুলিস। সেখানেই ভাগ, বাটোয়ারার পর দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয় বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। কোন পথে পালালো তারা? আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিস সূত্রে খবর, বাড়ি থেকে অদূরে একটি কেকের দোকান রয়েছে। সেই কেকের দোকান থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেয়েছেন তদন্তকারীরা। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে তদন্তকারীরা জেনেছেন, প্রায় ৪৫ মিনিট ওই বাড়িতে ছিল দুষ্কৃতীরা। লালবাজারের দাবি, গ্রিল খুলে ঘরে ঢুকে আলমারি থেকে গয়না লোপাট করে বেরিয়ে যেতে খুব বেশি হলে ২০ মিনিট সময় লাগার কথা। কিন্তু, তার থেকে বেশি সময় লেগেছে। পাশাপাশি, ঠাকুরঘরে গয়নার ফাঁকা বাক্স মেলায়, সেখানেই ভাগ-বাটোয়ারার কাজ হয়েছে বলে কার্যত নিশ্চিত তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, ঠাকুরঘরে বেশ কিছু বিগ্রহে রূপোর গয়না পরানো ছিল। কিন্তু, তা অক্ষত রয়েছে। 
কিন্তু, চুরি করল কারা? নির্দিষ্টভাবে প্রবীণ দম্পতির বাড়িতেই অপারেশন চালানো হল কেন? এখানেই রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তাহলে কি অভিযুক্ত পরিচিত? গয়না-নগদ বাড়ির কোথায় থাকে, তার খবর আগে থেকেই ছিল দুষ্কৃতীদের কাছে। জবাব খুঁজছে উল্টোডাঙা থানা। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ