নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাস ছাড়তে কিছু সময় বাকি। সিটে ব্যাগ রেখে কোনও কোনও যাত্রী বাস থেকে নীচে নামেন জলের বোতল বা অন্য কিছু কিনতে। সম্প্রতি তেমনটাই হয়েছিল হাওড়া স্টেশনের বাস স্ট্যান্ডে। দুষ্কৃতীরা বাসের মধ্যেই সহযাত্রী সেজে লক্ষ্য রাখছিল। ব্যাগের মালিক বাস থেকে নামতেই চোখের নিমিষে ব্যাগ গায়েব করে দেয় তারা। হাওড়া বাসস্ট্যান্ডে গত কয়েক মাস ধরে এমনভাবে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছিল একটি চক্র। অবশেষে হুগলির রিষড়া থেকে এই চক্রের দুই পান্ডাকে গ্রেফতার করেছে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম শ্যামসুন্দর শূর ওরফে রাজু ও মনোহর সাউ। দু’জনেই রিষড়ার বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক ব্যাগ ও ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে। তাদের হেপাজতে নিয়ে চক্রের বাকিদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের মাথা শ্যামসুন্দর। শাগরেদদের নিয়ে হাওড়া বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ঘোরাঘুরি করত সে। বাস স্ট্যান্ডের চ্যানেলগুলিতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে উঠে যাত্রী সেজে বসে থাকত অভিযুক্তরা। খুব ভিড় নেই, এমন বাসকেই টার্গেট করত তারা। বাস ছাড়ার আগে অনেক যাত্রী ধূমপান করতে কিংবা টুকিটাকি জিনিস কিনতে নীচে নামেন। অন্য কেউ যাতে সিটের দখল নিতে না পারে, সেকারণে সঙ্গে থাকা ব্যাগটি সিটে রেখেই নেমে পড়েন যাত্রীরা। এই সুযোগে ব্যাগ নিয়ে বাস থেকে নেমে ভিড়ে মিশে যেত শ্যামসুন্দররা। এদিকে, ব্যাগে থাকা ল্যাপটপ, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সব কিছু হারিয়ে মাথায় হাত পড়ত যাত্রীদের। গত দু’মাস ধরে এমন বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়ে গোলাবাড়ি থানায়। তদন্তে নেমে এই চক্রের হদিশ পায় পুলিশ। হুগলির রিষড়ায় অভিযান চালিয়ে চক্রের দুই পান্ডা শ্যামসুন্দর ও মনোহরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বাড়ি থেকে ছ’টি ব্যাগ ও তিনটি ল্যাপটপ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শ্যামসুন্দর ও তার দলবল চুরির পর রিষড়ায় ফিরে মনোহরের কাছে বিক্রি করত তারা। পরে ল্যাপটপগুলিকে পাঠিয়ে দিত বিভিন্ন চোরাবাজারে। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, এই চক্রের মূল দুই মাথাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জেরা করে অনেক তথ্য মিলেছে। বাকিরা শীঘ্রই ধরা পড়বে। তবে সম্প্রতি হাওড়া স্টেশন চত্বরে চুরি, ছিনতাই, লুটপাটের মতো অপরাধ উত্তরোত্তর বেড়েছে।
বিশেষ করে স্টেশন সংলগ্ন কলকাতা ও দীঘা বাস স্ট্যান্ডের আনাচ-কানাচ সন্ধ্যার পরেই নেশাখোর, দুষ্কৃতীদের আখড়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। গত ৭ অক্টোবর রাতে হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা রাঁচিগামী ট্রেনে উঠে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর করে সোনা সহ তাঁর ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয় বিহারের একদল দুষ্কৃতী। এরপর ১৫ অক্টোবর হাওড়া স্টেশনের সাবওয়েতে এক মহিলার সোনার হার ছিনতাই করে পালায় দুষ্কৃতীরা।