নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অ্যাকাদেমি অব ফাইন আর্টস চত্বরে একটি বাড়ির রং বদল নিয়ে চাপানউতোর চলছেই। ওই বাড়িতে বিজেপি গেরুয়া রং করেছিল। তারপর নাট্যকর্মীরা সাদা রং করেন। বুধবার বিকেলে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ সশরীরে হাজির হয়ে সাদার উপর ফের গেরুয়া রং চাপিয়ে দেন। এরপর বিতর্ক যায় আরও বেড়ে। নাট্যকর্মীরা কি ফের সাদা রং করে দেবেন? ওঠে এই প্রশ্ন। বৃহস্পতিবার সাদা রং করেছিলেন যে নাট্যকর্মীরা তাঁরা বৈঠকে বসেন। তাঁরা ঠিক করেন, রং বদলের খেলায় মাতবেন না। আধিপত্যবাদের কথা মানুষের কাছে তুলে ধরবেন।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অ্যাকাদেমির ওই বাড়িটিকে আচমকা গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তোলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। সেখানে ভারতমাতা সহ কয়েকজন নেতার ছবি টাঙিয়ে দেন। এরপর বিক্ষোভ দেখায় বামেদের শ্রমিক সংগঠন। নাট্যকর্মীরা বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে যান। কিন্তু রং সেই গেরুয়াই থেকে যায়। মঙ্গলবার নাট্যকর্মীদের একাংশ সাদা করে দেন দেওয়াল। আবার তার পরেরদিন বিজেপি ফের গেরুয়া রং লেপে দেয়। বৃহস্পতিবারে নাট্যকর্মীদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার চন্দন সেন (সিনিয়র), বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাশিস মজুমদার, জয়রাজ ভট্টাচার্য প্রমুখ। বৈঠকে উপস্থিত এক নাট্যকর্মী বলেন, ‘রং বদলের খেলায় মাতব না। ১৯ তারিখ একটি সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা হয়েছে। এই কাজ আসলে আধিপত্যবাদ কায়েমের চেষ্টা। ছাত্র-যুব সহ সকলকে আমরা এক করার চেষ্টা করছি। আধিপত্যবাদ কায়েমের ফলেই তো নেতাজি, সুকান্ত ভট্টাচার্যের উপর আক্রমণ নেমে আসছে।’ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘পোশাক দেখে নাট্যকর্মীর উপর আক্রমণ হচ্ছে। রাজনৈতিক রং বদলানো একজনকে দেখলাম ওই বাড়ির রং বদলাচ্ছেন। সেখানে তো চিত্তপ্রসাদ, সোমনাথ হোড়, উদয় শঙ্করের ছবি রাখার কথা। নেতাজি নিয়ে কথা বললে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন। সেটা আগে নিজের ঘর থেকে শুরু করুন।’