Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নদীপাড়ের জঙ্গল কেটে পুজো শুরু জমিদারের, এখন দায়িত্বে প্রজারা, নামখানা ব্লকের নারায়ণপুরে হাতানিয়া-দোয়ানিয়া

প্রজাদের মঙ্গল কামনায় জমিদারবাবু হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর অদূরে শুরু করেছিলেন দুর্গাপূজা। নিজের জমিতে দুর্গামন্দির স্থাপন করেছিলেন। তারপর পুজো শুরু।

নদীপাড়ের জঙ্গল কেটে পুজো শুরু জমিদারের, এখন দায়িত্বে প্রজারা, নামখানা ব্লকের নারায়ণপুরে হাতানিয়া-দোয়ানিয়া
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: প্রজাদের মঙ্গল কামনায় জমিদারবাবু হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর অদূরে শুরু করেছিলেন দুর্গাপূজা। নিজের জমিতে দুর্গামন্দির স্থাপন করেছিলেন। তারপর পুজো শুরু। বর্তমানে জমিদারি নেই। সে বাড়ির বংশধররাও সেখানে থাকেন না। কিন্তু জমিদারের প্রজারা স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রাখতে দুর্গাপুজোর ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পুজো চলছে মহা সমারোহে।

Advertisement

জমিদারের প্রজাদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও এখন পুজোয় যুক্ত হয়েছেন। এভাবেই নামখানা ব্লকের নারায়ণপুরে প্রথম ঘেরির দুর্গাপুজো সার্বজনীন হয়ে ওঠে। একসময় নামখানা ব্লকের নারায়ণপুর ছিল জঙ্গলে ঘেরা। কোনো জনবসতি ছিল না। তখন জমিদার ধনঞ্জয় গায়েন জঙ্গল কেটে লাট পত্তন করেছিলেন। জঙ্গল কাটার আগে বিশালাক্ষী দেবীর পুজো করা হয়েছিল। কারণ তখন সুন্দরবনের ওই এলাকায় বাঘের ভয়ঙ্কর দাপট। বিশালাক্ষী দেবীর বাহন হল বাঘ। তাই বাঘের হাত থেকে বাঁচতে বিশালাক্ষী দেবীর পুজো শেষ করে কুড়ুল দিয়ে প্রথমেই গাছের গায়ে কোপ মারা হয়েছিল। তারপর জমিদার ধনঞ্জয় জমি দান করেন কিছু মানুষকে। তাঁরাই হয় প্রজা। তাঁরা বসতি স্থাপন করেন। তারপর জমিদারি যায় ধনঞ্জয়ের পুত্র নারায়ণ গায়েনের হাতে। তাঁর নাম অনুসারেই অঞ্চলের নাম হয় ‘নারায়ণপুর’। 
পুজোর ইতিহাস সম্পর্কে মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত অমিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘জমিদারবাবুর সময় প্রথম পুরোহিত ছিলেন আমার ঠাকুরদা মন্মথনাথ চক্রবর্তী। তখন থেকে বংশপরম্পরায় আমাদের পরিবার এই মন্দিরের পুজো করছে। প্রথমে ছিল মাটির দেওয়াল ও খড়ের ছাউনি। পরে জমিদারবাবু নিজের বাড়িতে মাটির ইট পুড়িয়ে পাকা মন্দির তৈরি করে দেন। সেই মন্দিরেই দুর্গাপুজো হয়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ