নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লুএমও) এবং আমেরিকার আবহাওয়া সংস্থা এনওএএ ফের জানিয়েছে, এবারের এল নিনো শক্তিশালী হতে হতে তীব্রতার নিরিখে রেকর্ড ভাঙতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আরও উদ্বেগজনক তথ্য জানাল আমেরিকার শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের একটি গবেষণামূলক রিপোর্ট। তাতে বলা হয়েছে, এল নিনোর ফলে প্রচণ্ড গরম পড়ার কারণে এবার বিভিন্ন দেশে ৪ লক্ষ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে। এই দেশগুলির তালিকায় আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ ছাড়া আছে ভারত ও ব্রাজিল। ভারতে গরমের কারণে ১৫,৮০০ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে রিপোর্টে। এল নিনোর জন্য খরা, বনাঞ্চলে আগুন, বন্যা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মৃত্যুর এই হিসাবে ধরা হয়নি। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই সময়টিতে বেশি মৃত্যু হবে তীব্র এল নিনোর জন্য। আবহাওয়া সংস্থাগুলি মনে করছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত এল নিনো পরিস্থিতি বজায় থাকবে। ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ১.২ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
যে সময়ে তীব্র গরমে প্রাণহানির আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে তার একটা বড়ো অংশে ভারতে শীতকাল চলবে। তাহলে কি এবারের শীত খুবই ‘উষ্ণ’ হবে? আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, শীতকাল নিয়ে বা শীতকালীন সময়ে দক্ষিণ ভারতে যে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর কারণে বৃষ্টি হয় তার উপর কোনো পূর্বাভাস এখনো তাঁরা দেননি। এল নিনোর প্রভাব কতটা থাকবে সে-ব্যাপারে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।
তবে আবহাওয়া অধিকর্তা ও আবহাওয়া দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল জি সি দেবনাথ একই সুরে বলছেন, ভারতের উপর এল নিনোর প্রভাব নিয়ে কোনো কিছু ‘ওয়ান টু ওয়ান’ ধাঁচে বলা যায় না। আবহাওয়াবিদদের কথায়, এল নিনোর প্রভাবে কখনো বৃষ্টি কমে। আবার এল নিনো বছরে দেশে বৃষ্টি ভালো হয়েছে এরকমও একাধিকবার ঘটেছে। এবার এল নিনো পরিস্থিতি জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছে। তারপরও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের অনেক জায়গায় স্বাভাবিক এমনকি কোথাও কোথাও অতিরিক্ত পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। যদিও বেশকিছু এলাকায় বৃষ্টির প্রচুর ঘাটতি হয়েছে। এবার বর্ষাকালে (জুন থেকে সেপ্টেম্বরে) এখনো পর্যন্ত সার্বিকভাবে দেশে দীঘর্কালীন গড়ের তুলনায় ১২ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্তা জি সি দেবনাথ বলেন, ভারত মহাসাগরের আইওডি পরিস্থিতি পজিটিভ থাকলে এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে আটকানোর ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। অতীতে এটা একাধিকবার দেখা গিয়েছে। এবার বর্ষাকালে আইওডি ‘নিউট্রাল’ ছিল। সেপ্টেম্বর থেকে তা পজিটিভের দিকে যেতে শুরু করেছে। তাঁর মতে, শীতকালে এখন শীতের মাত্রা কিছুটা কম থাকে, এটা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে বিশ্ব উষ্ণায়ন এর কারণ হতে পারে।