Bartaman Logo
৯ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

শিল্ড জয়ে শারোদৎসব শুরু মোহন বাগানে, তাগিদেই জয় ছাংতে-সাহালদের, নিষ্প্রভ এডমুন্ডরা

‘শুনে যা, শুনে যা রে খোলা রেখে কান, সবুজ-মেরুন পতাকা বাতাসে টানটান। চিরকাল রেলায় আছে থাকবে মোহন বাগান।’

শিল্ড জয়ে শারোদৎসব শুরু মোহন বাগানে, তাগিদেই জয় ছাংতে-সাহালদের, নিষ্প্রভ এডমুন্ডরা
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: ‘শুনে যা, শুনে যা রে খোলা রেখে কান, সবুজ-মেরুন পতাকা বাতাসে টানটান। চিরকাল রেলায় আছে থাকবে মোহন বাগান।’ বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়েও যুবভারতীর বাইরে নাচতে ব্যস্ত পালতোলা নৌকার সওয়ারিরা। ভিড়ের মধ্যে কে যেন জ্বালিয়ে দিলেন সবুজ-মেরুন রংমশাল। শিল্ড জয়ে শারদোৎসব শুরু মোহন বাগানে। বদলার উচ্ছ্বাসে রঙিন সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে ইস্ট বেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জিতে নিল গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। ৪৩ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা সমীর জেলকোভিচ। বসনিয়ার ফুটবলার সারা ম্যাচেই অনবদ্য ফুটবল খেলেন। কয়েকদিন আগে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পর্যুদস্ত হয়েছিলেন মোহন বাগানের গ্রিক কোচ। এদিন সুদে-আসলে শোধ তুললেন তিনি। খেতাবি লড়াইয়ের আগে অনেকেই এগিয়ে রেখেছিলেন ইস্ট বেঙ্গলকে। কিন্তু মর্যাদার ডার্বি সবসময় ৫০-৫০। এদিন তাগিদেই প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিল মোহন বাগান। গতবারের মতো চলতি মরশুমেও শিল্ড চ্যাম্পিয়ন  সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ২২তম খেতাব ঝলমল করছে ট্রফি ক্যাবিনেটে। ইস্ট বেঙ্গলের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ২৯। তবে ১৯৭৯-র পর ফের একই মরশুমে ঘরোয়া লিগ ও শিল্ডের স্বাদ পেল পালতোলা নৌকা ব্রিগেড। উল্লেখ্য, ১৯১১ সালে ইস্ট ইয়ার্কশায়ারকে হারিয়ে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসাবে শিল্ড জেতে মোহন বাগান। অভিলাষ, শিবদাস, বিজয়দাসদের গৌরবগাথা স্থনে পেয়েছে ইতিহাসের পাতায়। খালি পায়ে বুট পরিহিত ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মোহন বাগানের সংগ্রাম উজ্জীবিত করেছিল বিপ্লবীদের। এদিন সাহালদের উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে শিবদাসরাও নিশ্চয়ই আশ্বস্ত হবেন। 

Advertisement

রাত পোহালেই মহালয়া। পুজোর বাজার জমজমাট। বিভিন্ন মণ্ডপে প্রস্তুতি তুঙ্গে। পুজোর মতো ফুটবলও বাঙালির আরেক উৎসব। তাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খেতাবি লড়াই ঘিরে উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। এদিন বিকেলের পর থেকেই ভিড় বাড়তে থাকে বাইপাসে। তবে ম্যাচের ঘণ্টাখানেক আগেই প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে শুরুতে গ্যালারি ছিল কিছুটা ফাঁকা।
ম্যাচের আগে অনেকেই ইস্ট বেঙ্গলকে এগিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ডার্বির পালসই আলাদা। ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখিয়েও ছন্দ হারায় ইস্ট বেঙ্গল। ৬ মিনিটে রামিরেজের পাস খুঁজে নেয় এডমুন্ডকে। তাঁর পুশ রুখে দেন বিশাল। ডুরান্ড ডার্বির নায়ক এডমুন্ড একেবারেই নিষ্প্রভ। প্রথমার্ধের মাঝমাঝি খেলা ধরে নেয় মোহন বাগান। একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি হলেও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ ছাংতেরা। বিরতির পর হাবাস একাধিক পরিবর্তন করেন। তবে কামব্যাক হয়নি। বরং ছন্নছাড়া ইস্ট বেঙ্গলকে দেখে বিরক্ত হয়েছেন কট্টর অনুরাগীও। শেষ বাঁশি বাজতেই বাড়িমুখো হলেন তাঁরা। আসলে এই সমর্থকরাই লাল-হলুদের আসল ইউএসপি। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটাতে হাজির থাকেন তাঁরা। এই আবেগের দাম দিতে ব্যর্থ লাল-হলুদ ফুটবলাররা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ