সংবাদদাতা, মানিকচক: জল কিছুটা কমলেও এখনও ভূতনি জলের তলায়। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এখনও জলমগ্ন। সংসার এখনও ছাদ থেকে ঘরের মেঝেতে নামতে পারেনি। ভূতনির বিভিন্ন জায়গায় এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ। জলবদ্ধতা, হাহাকার, ক্ষোভের মধ্যেও বৃহস্পতিবার অন্য ছবি ধরা পড়ল ভূতনি ব্রিজে। কেউ ডিঙিতে, কেউ মাথায় বিশ্বকর্মার প্রতিমা নিয়ে ভূতনির বিভিন্ন এলাকায় গেলেন বানভাসিরা। গত দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভূতনির ৬০টিরও বেশি গ্রাম জলমগ্ন। অনেক গ্রামে খাবারের জন্য হাহাকার পড়ে গিয়েছে। তারপরও বিশ্বকর্মার আরাধনায় কোনো ছেদ পড়ছে না। আড়ম্বর, জাঁকজমকের সঙ্গে না হলেও রীতি মেনে বিশ্বকর্মার পুজো করবেন বানভাসিরা।
গত কয়েক বছরে ভূতনির তিনটি পঞ্চায়েত এলাকায় ছোটো-বড়ো মিলিয়ে পাঁচশোর বেশি বিশ্বকর্মা পুজো হতো। দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা বহন করে এই পুজোই। তাই আগ্রাসী গঙ্গা ভাসিয়ে দিলেও পুজো বন্ধ রাখার কথা ভাবতে পারছেন না ভূতনিচরের লক্ষাধিক মানুষ। বৃহস্পতিবার ভূতনি ব্রিজ থেকে মাথায় করে সারি সারি বিশ্বকর্মার প্রতিমা নিয়ে গেলেন বানভাসিরা। ব্রিজ থেকে নেমে নৌকায় চেপে বিশ্বকর্মা পাড়ি দিল ভূতনির বিভিন্ন গ্রামে।
প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় দক্ষিণ চণ্ডীপুরের মাঝিটোলার বাসিন্দা সুধাংশু মণ্ডল বলেন, গত দু’দিনে জল কিছুটা কমেছে। বাড়ির ভেতর থেকে জল নেমেছে। কিন্তু উঠোনে এখনো এক কোমর জল। তবুও বন্যার জলে দাঁড়িয়ে ধুমধাম করে বিশ্বকর্মার পুজো করব। হীরানন্দপুরের রানা মণ্ডল বললেন, যত কষ্টই হোক। বিশ্বকর্মার পুজো বন্ধ করা যাবে না। তাই মাথায় করে প্রতিমা নিয়ে এসেছি। নৌকায় করে বাড়ি নিয়ে যাব। নিজস্ব চিত্র