নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে ভোট। অথচ সিংহভাগ ভোটারই ভোট দিতে পারবেন না। সৌজন্যে: ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের গড়ে দেওয়া ট্রাইবুনাল। গত পাঁচ মাসে এখনও পর্যন্ত ১৯টি ট্রাইবুনালে মাত্র ১ লক্ষ ২ হাজার ২৩১ টি আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি পড়ে রয়েছে ৩৭ লক্ষ ১৮ হাজার ৪৫২ জনের আবেদন। সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া নির্বাচন কমিশনের এক নথি থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির জন্য মোট আবেদন জমা পড়েছে ৩৮ লক্ষ ২০ হাজার ৬৮৩। অর্থাৎ গত ১৩ এপ্রিল ট্রাইবুনাল গড়া থেকে এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তির হার স্রেফ ২.৬৭%।
একইসঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এসআইআর শুরু হওয়া থেকে (২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত) নাম তোলার আবেদন (ফর্ম-৬) জমা পড়েছে ৩৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৪৮১। যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি ৪ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩৯৫টি আবেদনের। নাম তোলার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৯ টি। আর বাতিল (রিজেক্ট) করা হয়েছে ৭ লক্ষ ২৬ হাজার ৬৬০ টি।
গোটা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে মুর্শিদাবাদ (রেজিনগর উপনির্বাচন এই জেলায়)। এখানে এসআইআরে নাম না থাকায় ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯২১ টি আবেদন জমা পড়েছে ট্রাইবুনালে। অথচ গত পাঁচ মাসে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫১৪ টির। পূর্ব মেদিনীপুরে (যেখানে নন্দীগ্রাম) আবেদন জমা পড়েছে ৪১ হাজার ২১০ টি। এখনো পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৭৭০ টি। তাই আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানিতে আবেদনকারীর আইনজীবীরা কমিশনকে চেপে ধরবে বলেই ঠিক করেছে।
কেন ট্রাইবুনালে দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে না? কমিশন কেন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে না? প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের এসআইআর সেলের চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসু। মামলা করেছেন এআইসিসির সদস্য প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীও। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন শেষমেশ ১১৬ পাতার এফিডেভিট জমা দিয়েছে। শুক্রবার অধীরবাবু বলেন, সুপ্রিম কোর্টে টালবাহানা করছে কমিশন। নানা ছুতোয় কমিশন চোরা পথে লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে। আসলে ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণের নামে কেলেঙ্কারি চলছে। সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে কমিশন। কেন উপনির্বাচনেও দুই্ জেলাই সিংহভাগ ভোটার ভোট দিতে পারবেন না? জবাব দেবে কি কমিশন?