নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মমতা বনাম ঋতব্রতর লড়াইয়ে কমিশনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার মামলার নিষ্পত্তি করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, তৃণমূলের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক এবং দলের ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি কাদের প্রাপ্য—তার স্থির করতে চার মাস সময় পাবে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ, এই সময়সীমা অনুযায়ী চললে আগামী নভেম্বরে কলকাতা সহ সাত পুরসভার ভোট জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই হবে। উপনির্বাচনের মতোই। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া অস্থায়ী ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকেই পুর নির্বাচন লড়তে হবে মমতাপন্থী তৃণমূলকে। দলের নামও ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস।’ আর ঋতব্রত শিবিরকে ‘খাম’ প্রতীকে।
তিন মাস ইতিমধ্যেই অতিক্রান্ত। এরপর আরও চারমাসের অপেক্ষা। এটাই এখন প্রতীক-বিবাদের বাস্তব চিত্র। কারণ, গত ২২ জুন তৃণমূলের প্রতীক এবং নামের অধিকার দাবি করে কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিবাদের সেই শুরু। কমিশন দু’পক্ষকে নিজেদের দাবির পক্ষে নথি জমা দিতে বলে। কমিশনের নির্দেশ মেনে ৫ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সময় মতো জবাব দিলেও অরূপ রায়-ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা অতিরিক্ত সময় চান। গত ২৯ জুলাই, পরে ৩০ আগস্ট কমিশনের সচিব অশ্বিনী কুমার মোহলকে চিঠি লিখে দ্রুত ফয়সালার অনুরোধ করেন মমতা। তারই মধ্যে ঘোষণা হয় নন্দীগ্রাম আর রেজিনগরের উপনির্বাচনের দিনক্ষণ। তাই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় না পেয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার নির্দেশ দেয়। উপনির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই সুপ্রিম কোর্টে ১৮ সেপ্টেম্বর মামলা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৪ এবং ২৮ সেপ্টেম্বর, দু’দিন শুনানিতেই মামলার নিষ্পত্তি করেছে সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের নির্দেশ—চার সপ্তাহের মধ্যে দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার কাজ কমিশনকে শেষ করতে হবে। তারপর তিন মাসের মধ্যে কমিশনকে প্রতীক ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা আরও জানিয়েছে, এরপরও যদিও কোনো জরুরি বিষয় সামনে আসে, তাহলে আদালতের সামনে আসতে পারেন।
খাতায় কলমে তাই চার মাস সময় পাচ্ছে কমিশন। জানুয়ারি পর্যন্ত। সব ঠিক থাকলে ২৮-২৯ নভেম্বর পুরভোট। ফলাফল ২ ডিসেম্বর। একমাত্র কমিশন যদি তার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবেই পুরভোটে ফিরতে পারে জোড়াফুল। যদিও সেই সম্ভাবনা কম। এদিন শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু বলেন, ‘সামনেই উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যে নির্বাচন। সেই কাজে কমিশন ব্যস্ত। তাই তৃণমূলের এই মামলায় কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে অন্তত পাঁচ-ছ’ মাস সময় দেওয়া হোক।’ তার প্রবল বিরোধিতা করেন মমতা বন্দ্যোপায়ের দুই আইনজীবী কপিল সিবাল এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও স্পষ্টভাবে কমিশনকে জানিয়ে দেন, ‘তিন মাসই যথেষ্ট।’ মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ যদিও বলেছেন, ‘এবারের পুরভোট ইমানদার বনাম গদ্দার। আমাদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ রয়েছে। বিজেপি নানা কলাকৌশল করে বি-টিম তৈরি করেছে। ওই গদ্দারদের পাশে মানুষ নেই।’ আর গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘আদালত ও কমিশনের বিষয়। তবে যে টাইম ফ্রেম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, তা স্বাগত জানাচ্ছি। আর জোড়াফুলের প্রতীক ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আমাদের কাছে তিনটি প্রতীক জানতে চেয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা খাম প্রতীক পেয়েছি এবং গ্রহণ করেছি।’