সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘জিত কি নয়া জিদ, কেকেআর’— কলকাতা নাইট রাইডার্সের এমন পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে গোটা শহর। কিন্তু গত দু’টি ম্যাচ হারায় অজিঙ্কা রাহানেদের নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ কিছুটা হলেও কমেছে। বৃহস্পতিবার ইডেনের গ্যালারি তারই সাক্ষী। আর সেটাই তাতিয়ে দিল বেঙ্কটেশ আয়ার-রিঙ্কু সিংদের। ঘরের মাঠে তাঁদের এই পারফরম্যান্সই পরের ম্যাচগুলিতে মাঠ ভরাবে বলে আশায় বিশেষজ্ঞরা।
ইডেন গার্ডেন্স বরাবরই ক্রিকেটারদের খুব প্রিয়। রোহন কানহাই, আসিফ ইকবালরা তা বারবার বলেছেন। শুধু তাই নয়, দর্শকদের হৃদয়েও এই মাঠের আলাদা জায়গা রয়েছে। আর টুর্নামেন্টের নাম আইপিএল হলে তো কথাই নেই। উদ্বোধনী ম্যাচে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল মাঠ। বটতলার আনাচেকানাচে ব্ল্যাকারদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিসকে। নয়শো টাকার টিকিট সাড়ে তিন হাজারে কিনে মাঠে ঢুকেছিলেন অনেকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই উন্মাদনা উধাও। রেড রোডে যানজট নেই, পুলিসদের ব্যস্ততা নেই, ইডেনের গ্যালারির চেনা শব্দব্রহ্ম নেই। সত্যিই এমন অচেনা ইডেন বোধহয় বেঙ্কটেশ আয়াররাও প্রথমবার দেখলেন। আর সেটাই তাঁদের সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনল। গত দুই ম্যাচে ধুঁকতে থাকা কেকেআর তাই বৃহস্পতিবার চনমনে। মাত্র ১৬ রানে ২ উইকেট খোয়ানোর পরও স্কোরবোর্ডে উঠল ২০০। ঝড়ের শুরুটা হয়েছিল ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানের ব্যাটে। তিনি ফিরলে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন বেঙ্কটেশ আয়ার, রিঙ্কু সিংরা। কৃতিত্ব শুধু ব্যাটারদের দিলে হবে না। বোলাররাও ২২ গজে আগুন ঝরালেন। তাতেই পুড়ে ছারখার সানরাইজার্সের ট্রাভিস হেড, অভিষেক শর্মারা। অবশ্য কেকেআরের সামনে বরাবরই হাঁটু কাপে হায়দরাবাদের। গতবার ফাইনালেও শাহরুখ খানের দলের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল কমলা বাহিনী। টালিগঞ্জ নিবাসী নাইট অনুরাগী আদিত্য রায় বলছিলেন, ‘দুটো হার দেখেই অনেক সমর্থক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন বাড়িতে টিভির সামনে বসে তারা হাত কামড়াতে বাধ্য। কেকেআর হারুক কিংবা জিতুক, আমি মাঠে আসবই। ভালো সময়ে পাশে থাকব আর বাজে খেললেই সরে যাব, এমন মানসিকতা আমার নেই।’এরপরেই গলার শিরা ফুলিয়ে তাঁর স্লোগান, ‘করব লড়ব জিতবে রে।’