


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অতি অল্প অঙ্কের ঋণ নিয়ে নিজের ছোটোখাটো উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরু করার প্রবণতা বাড়ছে রাজ্যে। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লায়েড ইকোনোমিক রিসার্চ এবং মাইক্রো ফিনান্স ইন্ডাস্ট্রি নেটওয়ার্ক (এমফিন) একযোগে যে সমীক্ষা করেছে, তাতেই এই চিত্র উঠে এসেছে। রিপোর্টটি বলছে, একসময় যেখানে মহাজন বা অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা দেখা যেত, তা এখন অনেকটাই ফিকে। ১৫ বছর আগে দেশে অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ছিল ৪৬ শতাংশ, এখন তা নেমে এসেছে ১ শতাংশে। পশ্চিমবঙ্গও এর ব্যতিক্রম নয়, বলছে সমীক্ষা।
ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে কিছু কেনা বা খরচ করে ফেলার যে প্রবণতা দেখা যায়, তা কিছুটা ফিকে এরাজ্যে, বলছে রিপোর্টটি। এরাজ্যে যাঁরা ক্ষুদ্র ঋণ নেন, তাঁদের মধ্যে ১২.২ শতাংশ মানুষ নতুন দোকান তৈরি বা ব্যবসার পরিকাঠামো তৈরির জন্য ঋণ নেন, বলছে সমীক্ষাটি। ৩৩.১ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরানো ব্যবসায় নতুন লগ্নি বা ব্যবসার পরিসর বৃদ্ধিই উদ্দেশ্য, এমনটাই জানা গিয়েছে। ২৩.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় সম্পূর্ণ নতুন করে কোনো ব্যবসা চালু করাই অন্যতম উদ্দেশ্য ঋণগ্রহীতার। বাদবাকি ক্ষেত্রে বাড়ি তৈরি, চাষাবাদ বা অন্যকোনো কাজে ব্যবহার করা হয় ঋণের টাকা। সমীক্ষাটি বলছে, এরাজ্যে মহিলাদের একটা বড়ো অংশ ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে ব্যবসায় নামছেন। তাঁরা পরিবারের মাসিক আয়ে নিজেদের উপার্জন মিলিয়ে দেন এবং সম্পদ সৃষ্টিতে উদ্যোগী হন। মোট কথা রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, বলছে সমীক্ষা। এরাজ্যে যাঁরা ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের ৯৬.৩ শতাংশই প্রথমবারের ঋণগ্রহীতা, বলছে রিপোর্ট। ৩.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ঋণের সংখ্যা দুই বা তার বেশি। দেশের নানা প্রান্ত থেকে যাঁরা ঋণ নিচ্ছেন, তার গড় অঙ্কে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও মধ্যপ্রদেশের পরই রয়েছে বাংলা। এখানে মাথাপিছু ক্ষুদ্র ঋণের অঙ্ক ৫২ হাজার ৪১৯ টাকা। তামিলনাড়ুতে সেই অঙ্ক ৬৩ হাজার ৪৭৩ টাকা। বাংলায় ঋণ নেওয়ার পর ২৩ সপ্তাহের মধ্যেই তা শোধ করছেন গ্রাহকরা। ঋণের সঙ্গেই বাংলায় অল্প অঙ্কের সঞ্চয়ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে সমীক্ষায়। নারীর ক্ষমতায়নে রাজ্যকে সাহায্য করছে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পগুলি, বলছে রিপোর্ট।