Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গাছে ফুল ধরেছে, কাশ্মীর-হিমাচলের সঙ্গেই কি এবার বাজারে মিলবে সুন্দরবনের আপেল!

কাশ্মীর, হিমাচলের পর এবার কি বাজারে মিলবে সুন্দরবনের আপেল? স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ক্যানিংয়ের কাপড় ব্যবসায়ী শিবাজি সিংহ। তাঁর বাগানে  তিল তিল করে বড় হচ্ছে আপেল গাছ। তাতে এখন ফুল ধরেছে।

গাছে ফুল ধরেছে, কাশ্মীর-হিমাচলের সঙ্গেই কি এবার বাজারে মিলবে সুন্দরবনের আপেল!
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কাশ্মীর, হিমাচলের পর এবার কি বাজারে মিলবে সুন্দরবনের আপেল? স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ক্যানিংয়ের কাপড় ব্যবসায়ী শিবাজি সিংহ। তাঁর বাগানে  তিল তিল করে বড় হচ্ছে আপেল গাছ। তাতে এখন ফুল ধরেছে। এ গাছগুলি যখন চারা অবস্থায় ছিল, তখন দিনে তীব্র রোদের হাত থেকে রক্ষা করতে ছাতা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হতো। বিকেলে রোদ পড়লে ছাতা খুলে ফেলতেন শিবাজিবাবু। জৈব সার দেওয়ার পাশাপাশি গোড়ায় যাতে জল না জমে, সেদিকে নিয়মিত নজর রাখতেন তিনি। পরম যত্নে এখন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে আপেল গাছ। সব ঠিকঠাক থাকলে কয়েক মাস বাদেই আপেল ধরবে গাছে। এমনটা হলে সুন্দরবনের নোনা মাটিতে তৈরি হবে নতুন ইতিহাস। এই চাষের প্রাথমিক জ্ঞান বাবার কাছ থেকে পেয়েছিলেন শিবাজিবাবু। বাকি পরিচর্যা ও অন্যান্য কাজের জন্য ভরসা করেছিলেন ইউটিউবকে। সেই ভিডিও দেখেই গাছ লালনপালন করছেন তিনি।

Advertisement

সুন্দরবন মানেই হেতাল, কাঁকড়া, গরান, সুন্দরী, ম্যানগ্রোভের জঙ্গল। আর রয়েছে মাছের ভেড়ি, ধানের জমি। কিন্তু এখানে আপেলের চাষ— একরাশ বিস্ময় তৈরি হয়েছিল আশপাশের মানুষের মধ্যে। আগে সুন্দরবনে এমনটা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। সেই অসাধ্য সাধনের চেষ্টায় এখন মগ্ন এই ব্যবসায়ী। তিনি আপেল চাষের কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন বছর দশেক আগে। শিবাজিবাবুর কথায়, আমার বাগানে কমলা লেবু, মোসাম্বি ইত্যাদি ফলের গাছ আছে। তাই ভাবলাম আপেল চাষ করলে কেমন হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাতে বাজার থেকে আপেল কিনে এনে তা থেকে বীজ সংগ্রহ করে শুরু করি প্রাথমিক কাজ। বীজগুলিকে দিনের বেলা ফ্রিজে রাখা হতো। রাতে থাকত বাইরে। এভাবে পরিচর্যা করার পর একদিন তাতে অঙ্কুর এল। তারপর বাগানে রোপণ করা হয় তা। শুরুতে ১৫টি গাছ হলেও কয়েক বছর আগে ঘূর্ণিঝড় যশের দাপটে উপড়ে পড়ে যায় ১৩টি। তবে যে দু’টি টিকে গিয়েছিল, সেগুলি এখন বড় হয়েছে। যত্ন নিয়ে লালনপালন করায় সম্প্রতি তাতে ফুল ধরেছে। তবে এই গাছ বড় করতে কম ঘাম ঝরাতে হয়নি। শুরুতে রোদের হাত থেকে চারাগাছকে বাঁচাতে ছাতা ব্যবহার করেছিলাম। পরে একটু একটু করে রোদ খাওয়ানো হয়। কিছুদিন বাদে আপেল গাছ এখানকার পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে শুরু করে এবং বাড়তে থাকে। এখন তাতে আপেল ধরার অপেক্ষা। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ