


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: অবশেষে বেহাল শিবপুর লঞ্চঘাটের সংস্কার কাজে হাত দিল পরিবহণ দপ্তর। গত বছর বান আসার পর ভেঙে গিয়েছিল জেটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল গ্যাংওয়ে। এক বছর পর সারাইয়ের কাজ শুরু হল। জোয়ার-ভাটার কারণে অতিরিক্ত সময় লাগলেও ছ’মাসের মধ্যে পরিষেবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে পরিবহণ দপ্তর।
হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমিতির অধীনে হাওড়ার শিবপুর লঞ্চঘাট থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত প্রতিদিন লঞ্চ চলাচল করত। এ জলপথে যাতায়াত করতেন কয়েক হাজার যাত্রী। তিনটি কাউন্টারে দিনভর যাত্রীদের ভিড় থাকত। তবে গত কয়েক বছর ধরেই জেটিঘাট সংস্কারের কাজে ঢিলেমি, পুরনো লঞ্চগুলির বেহাল অবস্থার কারণে পরিষেবা বিঘ্নিত হতো প্রায় সময়ই। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে আচমকা বানের তোড়ে জেটিঘাটে যাওয়ার রাস্তা অর্থাৎ গ্যাংওয়ের নীচে থাকা লোহার কাঠামো ভেঙে যায়। বিপজ্জনকভাবে একদিকে বেঁকে যায় গ্যাওয়ে। ক্ষতিগ্রস্থ হয় জেটিঘাটও। এরপর গত প্রায় এক বছর লঞ্চঘাটের পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ। তা চালুর দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা পর্যন্ত হয়। এরপর জটিলতা কাটিয়ে মঙ্গলবার থেকে জেটিঘাট সংস্কারের কাজ শুরু করল পরিবহণ দপ্তর।
এদিন ভাসমান জেটিঘাট অর্থাৎ পল্টুন সংস্কারের কাজ করতে দেখা গিয়েছে পরিবহন দপ্তরের বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীদের। সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ টন ওজনের চারটি ভারী অ্যাঙ্কর গঙ্গার গভীরে ফেলা। তা শেকলের সাহায্যে তুলতে অনেক সময় লাগছে। ডুবুরিদের কাজে লাগানো হচ্ছে। বিপদসংকুল কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জোয়ার-ভাটা। ফলে সংস্কারে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। কাজ শেষ হলে গ্যাংওয়ের নীচে থাকা লোহার কাঠামো সারাই হবে। হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমিতির চেয়ারম্যান বাপি মান্না বলেন, ‘জেটিঘাট প্রস্তুত হয়ে গেলে আমরা লাগাতার লঞ্চ চালাতে পারব। শিবপুর-বাবুঘাট লাভজনক রুট। প্রয়োজনে অতিরিক্ত লঞ্চ চালানো হবে।’
আগে সরাসরি শিবপুর ঘাট থেকে লঞ্চ ধরে বাবুঘাট হয়ে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় যেতে পারতেন সবাই। বেশি সুবিধে হতো খুচরো ব্যবসায়ী, দিনমজুর ও শ্রমিকদের। কিন্তু বর্তমানে হয় চাঁদপাল ঘাট পর্যন্ত গিয়ে তাঁদের লঞ্চে ধরতে হচ্ছে। নতুবা স্থলপথে বাসের উপর নির্ভর হতে হচ্ছে। লঞ্চঘাট চালু হলে উপকৃত হবে স্থানীয় দোকানদার, বাইক-সাইকেল স্ট্যান্ডের কর্মীরাও। -নিজস্ব চিত্র