নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ উঠল। এগরার কসবা শীতলা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা নীলাঞ্জনা মাইতির বদলির নির্দেশিকা নিয়ে হাইকোর্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদকে অবৈধ ঘোষণার পরই মুখ খুলতে শুরু করেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। অভিযোগ, সার্কেলের দু’-একজন ঘনিষ্ঠ শিক্ষককে নিয়ে সভাপতি সিন্ডিকেট বানিয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরে কোথায় কোন শিক্ষক বদলি হবেন সেটা ঠিক করে দিচ্ছে ওই সিন্ডিকেট। শিক্ষকরা বলছেন, লাইনে না এলেই টার্গেট করা হচ্ছে। সদ্য চাকরি পাওয়া শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক এমনকী প্রধান শিক্ষককেও হুটহাট বদলি করা হচ্ছে। অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিস থেকে বদলির অর্ডার যাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জয়েন না করলে সরাসরি জেলা থেকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অর্ডার করে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের পদাধিকারীরা বেশি করে টার্গেট হচ্ছেন। কারণ, শাসকদলের সমান্তরাল দুই সংগঠনের রেষারেষিতে তাঁরা সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমানের কোপে পড়ছেন। সংসদ সভাপতি বলেন, প্রতি মাসে অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা বদলি হচ্ছেন। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত যথাযথ রাখতে বদলি করা হচ্ছে। কোথাও বলা নেই, সিনিয়রদের বদলি করা যাবে না।
মাত্র ১১ মাসের মধ্যে তিন বার বদলি অর্ডার পান মুস্তাক সাইকুল আলম সিদ্দিক। তিনি দেশপ্রাণ ব্লকে চালতি বেসিক প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ওই বিদ্যালয়ে মোট পাঁচ শিক্ষক। সহ শিক্ষকদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে সিনিয়র। তারপরও ১১ মাসে তিনবার বদলির নির্দেশ পান।
গত ১৭ জুন থেকে বাড়ি থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে খেজুরির বালিচক কুমার নারায়ণ প্রাইমারি স্কুলে রয়েছেন। মুস্তাক সাহেব এই বদলির অর্ডারকে চ্যালেঞ্জ করে পর্ষদের আদালত অ্যাপিল কমিটিতে গিয়েছিলেন। তাঁকে চার সপ্তাহের মধ্যে পুরনো স্কুলে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে ওই কোর্ট।
মুস্তাক সাহেব বলেন, সংসদ সভাপতি গোটা জেলায় বদলি কার্যকর করতে সিন্ডিকেট বানিয়েছেন। প্রতিটি চক্রে তাঁর দু’-একজন ঘনিষ্ঠ শিক্ষক আছেন। তাঁদের নিয়ে গড়া হয়েছে সিন্ডিকেট। লাইনে না এলেই টাইট দেওয়া শুরু হয়।
অথচ, ২০১৫ সাল থেকে সংসদে বোর্ড মেম্বাররা কেউ নেই।
স্কুলে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় শিক্ষক উদ্বৃত্ত এই গ্রাউন্ডে কাঁথির আলদারপুট প্রাইমারির প্রধান শিক্ষক দেবাশিস পাণিগ্রাহীকে ৭০ কিলোমিটার দূরে পটাশপুরের বড়ভাগিয়া জুনিয়র প্রাইমারিতে বদলি করা হয়। জুন মাস থেকে দেবাশিসবাবু এখন ওই স্কুলে কর্মরত। তিনি বলেন, প্রশাসনিক কাজের সুবিধার নাম করে আমাকে যেভাবে বদলি করা হয়েছে তা নজিরবিহীন।
দেশপ্রাণ ব্লকের অন্তর্গত বিচুনিয়া প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তপন জানাকে স্থানীয় সারসা প্রাইমারি স্কুলে লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্টে বদলি করা হয়েছিল। কাঁধে টিউমার অপারেশনের জন্য তপনবাবু সারসায় জয়েন না করায় তাঁর দু’ মাসের মাইনে বন্ধ করা হয়। শুধু তাই নয়, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অর্ডার করে তাঁকে দীঘা সার্কেলের অধীন কাশীপুর এসজি প্রাইমারিতে বদলি করা হয়। মঙ্গলবার তপনবাবু বলেন, স্কুলে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে আমি তৃতীয়। আমার পরে জয়েন করা শিক্ষকদেরও বদলি করা যেত। কিন্তু, তা না করে আমাকেই লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্টে পাঠানো হয়েছিল। তারপর সার্কেল বদল করে দূরে পাঠানো হয়েছে। এখনও দু’ মাসের মাইনে পাইনি।
এভাবেই স্কুলে জুনিয়র শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও সিন্ডিকেটের কোপে পড়ে সিনিয়র শিক্ষক এমনকী প্রধান শিক্ষকরাও বদলির কোপে পড়ছেন। কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি দীপককুমার মণ্ডল বলেন, বদলি নিয়ে অনেক সময়ে প্রতিহিংসার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা এ নিয়ে রাজ্যে অভিযোগ করেছি।