Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শক্তির আরাধনায় মাতোয়ারা কাটোয়ার তিন সতীপীঠ যোগাদ্যা, উজানি, অট্টহাস

সতীপীঠগুলিতে শক্তির আরাধনা হয় প্রাচীন রীতি মেনেই। বিভিন্ন সতীপীঠে ভিন্ন, ভিন্ন রীতিনীতিতে হয় পুজো।

শক্তির আরাধনায় মাতোয়ারা কাটোয়ার তিন সতীপীঠ যোগাদ্যা, উজানি, অট্টহাস
  • ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: সতীপীঠগুলিতে শক্তির আরাধনা হয় প্রাচীন রীতি মেনেই। বিভিন্ন সতীপীঠে ভিন্ন, ভিন্ন রীতিনীতিতে হয় পুজো। কাটোয়া মহকুমার তিন সতীপীঠে কালীরূপে শাক্তমতে আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা।  মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রামের তিন সতীপীঠে ভিড় জমে যায় দর্শনার্থীদের।  

Advertisement

মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামে মা যোগাদ্যা সতীপীঠগুলির মধ্যে অন্যতম। এখানে দেবীর ডান পায়ের বুড়ো আঙুল পড়েছিল। বছরের অন্য সময় মা যোগাদ্যার মন্দিরে পুজো হলেও কালীপুজোর সময়ও বিশেষ নিয়মে শক্তির আরাধনা হয় এখানে। আলাদা কোনও কালীমূর্তি এখানে নেই। তবে মায়ের বাড়িতে অবস্থিত দেবীর রত্নবেদিতেই কালীরূপে কল্পনা করে পুজো হয়। কালীপুজোর সময় মা যোগাদ্যার মহাভোগই দেবীকে নিবেদন করা হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, পাতালে মহীরাবণকে কৌশলে বধ করে পাতাল ত্যাগ করতে মনস্থির করেন রাম, লক্ষ্মণ ও হনুমান। ঠিক তখনই রাবণের আরাধ্যা দেবী মহাকাল রাবণকে ত্যাগ করে রামচন্দ্রের সঙ্গে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। তখন শ্রী রামচন্দ্রের আদেশে হনুমান এক কাঁধে রামচন্দ্র ও সীতা এবং অন্য কাঁধে লক্ষ্মণ নেন। আর হনুমান তাঁর মাথায় দেবী যোগাদ্যাকে পাতালপথে ক্ষীরগ্রামে এসে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই পাতাল এখনও আছে রত্নবেদিতে। সেখানেই কালীপুজোর দিন হয় শক্তির আরাধনা। 
মঙ্গলকোটের আরেক সতীপীঠ উজানিতে দেবী মঙ্গলচণ্ডীর পুজো হয়। এখানেই কালীপুজোর সময় হয় শক্তির আরাধনা। এখানেও জনশ্রুতি আছে, দেবী মঙ্গলচণ্ডীর পুজোর জন্য স্বর্গলোকে এক অপ্সরাকে অভিশাপ দিয়েছিল। সেই অপ্সরাই খুল্লনা রূপে এই উজানিনগরে এসেছিলেন। খুল্লনার বিয়ে হয় ধনপতি সওদাগরের সঙ্গে। কিন্তু ধনপতি শিবভক্তির জন্য তিনি মঙ্গলচণ্ডীর ঘট মানেন নি। পরে খুল্লনার পুজোয় সন্তুষ্ট হন মা চণ্ডী। 
কালিকাপুরাণ অনুযায়ী,  উজানিতে সতীপীঠের দেবী চণ্ডী কালীরূপ ধারণ করে ভক্তদের সঙ্গে একবার দেখা করেছিলেন। সেই থেকেই কালীপুজোর সময় এখানে পুজো হয়। অন্যদিকে, কেতুগ্রামে অট্টহাসের সতীপীঠে মহা ধুমধামের সঙ্গেই পুজো হয়। নতুন করে কালীমূর্তি তৈরি না হলেও একটি প্রস্তর মূর্তিতে তন্ত্রাচারে পুজো হয় এখানে। জানা গিয়েছে, কালীকাতন্ত্র অনুসারে এই সতীপীঠ তন্ত্র সাধকদের সাধনস্থল হিসাবেই বেশি পরিচিত।  দীপন্বিতা অমাবস্যায় কালীমন্ত্রে দেবীকে পুজো করা হয়। অট্টহাস মন্দিরের মহারাজ রামজী মহারাজ বলেন, এখানে কালীপুজোর দিন কালীমন্ত্রেই পুজো হয়। তবে অট্টহাসের মূল পুজো হয় অন্য সময়ে।
আগে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার ডাকাতদলের সর্দাররা এই  গভীর রাতে অট্টহাসের ঘন জঙ্গলে তাদের আরাধ্য দেবী মাকালীর পুজো দিত বলে শোনা গিয়েছে। তার মূল কারণ এই এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা। যার ফলে পুলিশ এই এলাকায় ঢুকতে পারত না। শোনা যায়, আগে রঘু ডাকাত নাকি নদীয়া থেকে ব্রিটিশ পুলিশের তাড়া খেয়ে কেতুগ্রামের অট্টহাসের জঙ্গলে ডেরা বেঁধেছিল। ডাকাতি করতে যাবার আগে রঘু অট্টহাসের কালীরপুজো করে যেত। অট্টহাসে দেবীর অধঃওষ্ঠ পড়েছিল। এই সতীপীঠে দেবীর পাষাণ মূর্তির উপর মহিষমর্দিনীর প্রস্তর মূর্তি রেখে নিত্যসেবা হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ