সুজয় মণ্ডল, বসিরহাট: তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে টাকির পুবের বাড়িতে। সেই ঐতিহ্য মেনে এখনও পুজো হয় এখানে। তখন অবিভক্ত বাংলা। না ছিল সীমানা, না ছিল কাঁটাতারের বেড়া। সেই সময় এই পুজোকে ঘিরে ছিল আলাদা উন্মাদনা। দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ এই পুজো দেখতে টাকিতে আসতেন।
এই পুজো চালু হয়েছিল টাকির রায়চৌধুরী পরিবারের তত্ত্বাবধানে। এই পরিবারের সদস্যা শর্মিষ্ঠা ঘোষ বলেন, আগে পশু বলির ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তীকালে সেই রীতি পরিবর্তন করা হয়। বিকল্প হিসাবে এখন চালকুমড়ো ও আখ বলি দেওয়া হয়। অষ্টমীতে ভোগ প্রসাদ বিলি, সন্ধ্যারতি ও দশমীতে সিঁদুর খেলার মাধ্যমে মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, মহালয়ার আগের দিন থেকে ঘট পুজো শুরু হয়। নিষ্ঠার সঙ্গেই হয় পুজো। দশমীর দিন পান্তা ভাত, কচুর শাক এবং রান্নার অন্যান্য পদ খাওয়ানোর পর মাকে ২৬ জন বেয়ারার কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয় ইছামতীর রাজবাড়ির ঘাটে। সেখানেই বিসর্জন দেওয়া হয়। যতক্ষণ না পুবের বাড়ির দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন হচ্ছে, ততক্ষণ টাকি এলাকার কোনো বারোয়ারি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। এখনও সেই রীতি মেনে চলে আসছে প্রতিমা বিসর্জন।
টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, রায়চৌধুরী পরিবার টাকির জমিদার ছিল। একটা সময় খুব ধুমধাম করে এই দুর্গাপুজো হত। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসতেন এবং পুজোর ক’দিন এখানে খাওয়া-দাওয়া, হই-হুল্লোড় করে কাটাতেন। এখন একটু জৌলুস কমলেও রীতি মেনেই পুজো হয় এখানে। এই পুজোকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতাও থাকে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় পুরসভার পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়। এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা কমল দাস বলেন, পুবের বাড়ির দুর্গাপুজো দেখার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকি। পুজোর ক’টা দিন কেটে যায় এই জমিদার বাড়িতে। হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। এলাকার মানুষই অংশগ্রহণ করেন এই অনুষ্ঠানে। নিজস্ব চিত্র