Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজোর থিম ‘শতবর্ষে ঋত্বিক’, বেহালা আদর্শপল্লিতে সুপ্রিয়া দেবীর আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিমার মুখ

দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়েছে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে থিমের লড়াই। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুজো কমিটি পুজো নিয়ে পোস্টার-ব্যানারে টিজারের মাধ্যমে চমক দিতে শুরু করেছে।

পুজোর থিম ‘শতবর্ষে ঋত্বিক’, বেহালা আদর্শপল্লিতে সুপ্রিয়া দেবীর আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিমার মুখ
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়েছে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে থিমের লড়াই। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুজো কমিটি পুজো নিয়ে পোস্টার-ব্যানারে টিজারের মাধ্যমে চমক দিতে শুরু করেছে। পাড়ায় পাড়ায় মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে।

Advertisement

এরমধ্যে থিম প্রকাশ করে দিয়েছে বেহালা আদর্শপল্লি দুর্গোৎসব কমিটি। এবার ৬৮তম বর্ষ তাদের। এবছরের থিম ‘শতবর্ষে ঋত্বিক’। বড় চমক থাকছে তাদের প্রতিমায়। ঋত্বিক ঘটকের অন্যতম সেরা ছবি ‘মেঘে ঢাকা তারা’। তাতে আছেন তাঁর পছন্দের অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবী। তাঁর মুখের আদলেই হচ্ছে আদর্শপল্লির দুর্গার মুখ। তৈরি করছেন কুমোরটুলির নামকরা শিল্পী মিন্টু পাল। 
বেহালার এই মণ্ডপে ফুটে উঠবে দেশভাগের আর্তনাদ-ব্যথার ছবি। সে যন্ত্রণার স্মৃতি ফের তাজা হতে চলেছে। এবছর বিশ্ব বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী। তাঁকে সম্মান জানিয়ে আদর্শপল্লি এবার তাদের মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছে। ঋত্বিক ঘটকের অবিস্মরণীয় সৃষ্টি আজও তাজা ছিন্নমূল মানুষের মনে। সে কথাই ফুটে উঠবে পুজোর থিমে। কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা হবে মণ্ডপ।
পুজো কমিটির সভাপতি শঙ্কর ঘোষ সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘মেঘে ঢাকা তারা’র নীতার আর্তনাদ শুনতে পাবেন দু’বাংলার মানুষ। দেশভাগ ও সেই সময় মহিলাদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরা হবে। তবে বর্তমানে এসআইআর নিয়ে যে গরম হাওয়া বইছে তার সঙ্গে এই পুজোকে মেলাতে চান না উদ্যোক্তারা। শঙ্করবাবুর বক্তব্য, এটা আমাদের আগাম ভাবনা। রাজনীতির সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।
পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, ঋত্বিকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ দেখায়, নীতার মতো নারীরা ম্লান হতে শেখেননি। আজও প্রতিটি ঘরের কোণায় নীতার মতো ধ্রুবতারারা জ্বলছেন। পথ দেখাচ্ছেন। সংসার নিজের কাঁধের উপর বহন করছেন কোনও অভিযোগ ছাড়াই। তাঁরাও স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু চাপা পড়ে যায় নীতাদের স্বপ্ন। পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, সিনেমায় নীতার সেই আর্তনাদ, ‘দাদা, আমি বাঁচতে চাই,’ রাজনীতির ঘেরাটোপে পূর্ব-পশ্চিমে বিচ্ছিন্ন হওয়া বাংলা, ছিন্নভিন্ন কতজনের সাজানো সংসার-সেই স্মৃতি ফুটে উঠবে মণ্ডপে। 
ক্লাব কর্তাদের দাবি, ঋত্বিকের সেলুলয়েডে শক্তিপদ রাজগুরুর কলমসম্ভবা নীতার মধ্যে আজও প্রতিবিম্বিত হয় সেই ছিন্নমূল উদ্বাস্তুদের স্বপ্নের চিতার আগুন, সেই বাঁচার অপূর্ণ আশা। প্যালেস্তাইন থেকে সুদান, আফগানিস্তান থেকে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশ, পৃথিবীর প্রতিটি বাস্তুহারা সংসারে আমরা দেখি নীতাদের আত্মাহুতি। ঋত্বিকের শতবর্ষে তাই সেই চিরপ্রাসঙ্গিক অভাগিনী নীতাদের বাঁচার আর্তি তুলে ধরবে ক্লাব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ