নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম শহরের সংঘমিত্র ব্যায়াম সমিতির এবছরের থিম, আমরা এখনও মাটির পুতুল গড়ি। এ বছর তাদের পুজো ৩৪তম বর্ষে পড়ল। ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবার স্টেশন পাড়ে মণ্ডপসজ্জার কাজ চলছে। অরণ্য শহরের থিম পুজোর ভিড়ে এই পুজো আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। প্রতি বছর পুজোর থিমে সামাজিক বার্তা থাকে। তাঁদের ভাবনায় অরণ্যভূমির মাটি, মানুষ, পশু ও পাখি জুড়ে থাকে। প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জায় এবছর অভিনবত্ব রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্যও রয়েছে চমক। বর্তমানে মাটির পুতুল হারিয়ে যাচ্ছে। সেই মাটির পুতুল দিয়েই এবার মণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিমায় বনদেবীর রূপ ফুটিগে তোলা হয়েছে। কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী যেন ঋষিপুত্র ও কন্যা। দেবীর উদ্যত ত্রিশূলের সামনে মহিষাসুর যেন লড়াই করতে অনাগ্ৰহী। দেবীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আছে অসুর। মণ্ডপের সামনে পাহারা দিচ্ছে দু’টি বিশাল হাতি। শিল্পী অভিজিৎ দত্ত মণ্ডপসজ্জয় মাটির ভাবনা ফুটিয়ে তুলেছেন। বাছুরডোবার স্টেশনপাড়া এলাকার মানুষ যৌথ উদ্যোগে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। তিনদশক ধরে যৌথভাবে সেই পুজো হয়ে চলেছে। অরণ্যভূমির যৌথ জীবনযাপনের সংস্কৃতি বাছুরডোবার বাসিন্দারা আজও বহন করে চলেছেন। নানা উৎসব, পার্বণে তার ছবি ধরা পড়ে। পুজোর চারদিন মণ্ডপই এলাকার মানুষের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে ওঠে। পুজোর দিনগুলোতে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। ছোটদের অঙ্কন প্রতিযোগিতা, দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ করা হবে। নবমীতে বাসিন্দারা পাত পেড়ে খিচুড়ি ভোগ খাবেন। পুজো কমিটির সম্পাদক অশোক গড়াই বলেন, মাটির পুতুল আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গ ছিল। জঙ্গলমহলের মৃৎশিল্পীরা এখনও পুতুল তৈরি করেন। বর্তমানে সেই মাটির পুতুল ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পুজোর থিমে মাটির পুতুলকে তুলে ধরা হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র



