মধ্যমগ্রামের ইয়ং রিক্রিয়েশন ক্লাবের থিম ‘শান্তির পথে’, থাইল্যান্ডের হোয়াইট ক্যাসলের ধাঁচে মণ্ডপ
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত:  দেশের মধ্যে অশান্তির আবহে শান্তির খোঁজে মানুষ। কালীপুজোর মাধ্যমে সে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে মধ্যমগ্রামের ইয়ং রিক্রিয়েশন ক্লাব। ৩৯ তম বর্ষে তাদের পুজোর থিম ‘শান্তির পথে’। মধ্যমগ্রাম চৌমাথার সুভাষ ময়দানে তৈরি হচ্ছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরের ‘হোয়াইট ক্যাসল’ বৌদ্ধমন্দিরের আদলে মণ্ডপ। শান্তির প্রতীক গৌতম বুদ্ধের ভাবনাকে সামনে এনে মানুষের মনে শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে চান উদ্যোক্তারা। 

Advertisement

‘শান্তি মনের ভিতর থেকে আসে। বাইরে এটিকে খোঁজার চেষ্টা করো না’ এই বার্তাই এবারের পুজোর মূল ভাবনা। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, অশান্তির সময় শান্তির খোঁজ কেবল বাইরের পরিস্থিতি বদলানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। মানুষের মন, মনোভাব এবং অন্যের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্যেও শান্তির সন্ধান করতে হবে। সেই ভাবনাকে শিল্পের ভাষায় তুলে ধরতেই বেছে নেওয়া হয়েছে থাইল্যান্ডের ‘হোয়াইট ক্যাসল’। মণ্ডপের উচ্চতা প্রায় ১২০ ফুট, চওড়ায় ৮০ ফুট। ফাইবার, ফোম ও রেজিন দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। তার সর্বাঙ্গে দুধসাদা রঙের ছোঁয়া। শিল্পী ত্রিদিব দেবের পরিকল্পনায় থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরের বৌদ্ধমন্দিরের আদলে সেজে উঠছে পুজো প্রাঙ্গণ। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে থাকছে বিশেষ আলোকসজ্জা।
শান্তির বার্তা শুধু মণ্ডপের মধ্যে আটকে রাখতে নারাজ ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায়দের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্য দিয়ে শান্তি ও মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়। সেই ভাবনা থেকেই গত তিনমাস ধরে চালু হয়েছে ‘স্নেহের পরশ’ প্রকল্প। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি প্রয়োজনে ওষুধের খরচও বহন করছে এই ক্লাব। ক্যানসার আক্রান্তদের রেডিয়েশন দেওয়ার খরচ জোগানোর উদ্যোগও নিয়েছে। অর্থাৎ পুজোর উৎসবের বাইরেও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সামাজিক দায়িত্ব বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের কাছে ‘শান্তির পথে’ শুধু একটি পুজোর থিম নয়, মানুষের সেবার মধ্য দিয়ে সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ারও চেষ্টা। ক্লাবের সম্পাদক শেখ মোমিন আলি বলেন, ‘সমাজের দুঃস্থ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সেবা করলে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়। তাই এ বছর শান্তির পথে থিমের মাধ্যমে পুজো মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছি।’