সংবাদদাতা, বনগাঁ: এবছর মাধ্যমিকে ইতিহাস পরীক্ষায় প্রশ্ন এসেছিল ‘পঞ্চানন কর্মকার কে ছিলেন?’ বাংলা মুদ্রণাক্ষরের স্রষ্টা ও মুদ্রণশিল্পের প্রযুক্তিবিদ হিসেবে বিখ্যাত পঞ্চানন কর্মকার। তাঁর সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে এক ছাত্র লিখেছে, ‘পঞ্চানন কর্মকার ছিলেন এক গুরুত্বপূর্ণ লোক। কারণ একা অনেক জনের কাজ করেছিলেন। দিনে মোটামুটি ৫ জনের কাজ করেন তাই তাঁর নাম হয় পঞ্চানন কর্মকার।’ ওই ছাত্রের খাতা দেখার সময় উত্তরটি দেখে তাজ্জব বনে যান এক শিক্ষক। তবে এখানেই চমকের শেষ নয়।
ইতিহাসের ৩.১০ নম্বর প্রশ্ন, ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?’ উত্তরে ছাত্রটি লিখেছে, ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো বাংলা ভাষায় সব ধরনের ছেলেমেয়েকে শিক্ষাদান করা।’ আরও আছে। ওই ছাত্রটি উত্তর লিখেছে, ‘বিপ্লব বলতে বোঝায় কোনো কোনো দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধা।’ এছাড়া স্বদেশী আন্দোলনে বাংলার কৃষকরা কেন যোগ দেয়নি তা নিজের মনমতো ব্যাখ্যা করেছে মাধ্যমিকের ওই ছাত্র। তাঁর উত্তর, ‘কৃষকদের যে অনুরোধ করা হয়েছিল তা সঠিকভাবে পালন করা হয়নি। এই আন্দোলনের প্রতি তাঁদের কোনো গুরুত্ব ছিল না।’ এসব উত্তরে রীতিমতো হতাশ ওই শিক্ষক। তাঁর বক্তব্য, ক্লাসে পড়ানোর সময় অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে অমনোযোগী হতে দেখি। সাধ্যমতো তাদের পড়া বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এই ছাত্রটির উত্তর সত্যিই হতবাক করেছে। তবে পরীক্ষায় যে উত্তরই লিখুক ‘শূন্য’ দিতে তিনি নারাজ। কারণ, শূন্য দিলে নানান ঝক্কি পোহাতে হতে পারে। রাজ্যের শিক্ষার হার বাড়লেও প্রকৃত শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।