নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: একুশের মেগা ইভেন্টে জেলা থেকে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী-সমর্থককে ধর্মতলার সভাস্থলে নিয়ে যাচ্ছে হাওড়ার তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রতিটি বিধানসভা থেকে প্রায় দশ হাজার করে কর্মী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেতারা। এ জন্য বাস, লরি, মাটাডোরের পাশাপাশি থাকছে ভুটভুটি ও লঞ্চের ব্যবস্থাও।
উত্তর হাওড়া বিধানসভা থেকে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী-সমর্থক ধর্মতলায় যাচ্ছেন বলে জানান তৃণমূলের হাওড়া জেলা সদরের সভাপতি ও উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। সালকিয়ার শ্রীরামবাটি ও শ্যাম গার্ডেনে তৈরি হয়েছে ভিন জেলা থেকে আসা কর্মীদের শিবির। সেখানে রবিবার রাতে ডিমের ঝোল-ভাতের ব্যবস্থা ছিল। এরপর সকালে খিচুড়ি-তরকারি খেয়ে শিবির থেকে ধর্মতলার দিকে রওনা দেবেন কর্মী-সমর্থকরা। শনিবার ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। মধ্য হাওড়া বিধানসভা থেকে প্রায় আট হাজার মানুষ মিছিল করে ধর্মতলায় যাবেন বলে জানান তিনি। অন্যদিকে দক্ষিণ হাওড়া থেকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ৭০টি বাস ও অঞ্চলগুলি থেকে ২৫টি গাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই বিধানসভা থেকে একুশের সভাস্থলে যাচ্ছেন বলে জানান বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরী।
অন্যদিকে সাঁকরাইল বিধানসভা থেকে প্রায় ১০ হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৬০টি বাস, ২০টি মাটাডোর এবং গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাঁকরাইলের বিধায়ক প্রিয়া পাল জানান, জলপথে কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য সারেঙ্গা ও হিরাপুর খেয়াঘাট থেকে তিনটি ভুটভুটি এবং মাণিকপুর খেয়াঘাটে একটি লঞ্চ রাখা হয়েছে। ডোমজুড় বিধানসভা থেকে সবমিলিয়ে ২০০টি গাড়ির ব্যবস্থা থাকছে। প্রায় ১০ হাজার কর্মী এই বিধানসভা এলাকা থেকে ধর্মতলা যাবেন বলে জানান বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ। বালি থেকে প্রায় ছ’হাজার মানুষ মিছিল করে ধর্মতলা যাবেন বলে জানান বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায়। গ্রামীণ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর বিধানসভা থেকেও প্রচুর সংখ্যক কর্মী-সমর্থক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানান বিধায়ক সীতানাথ ঘোষ। হাওড়া জেলা থেকে বড় সংখ্যায় যুব তৃণমূলের কর্মীরাও মিছিলে হাঁটবেন। প্রায় ২৫ হাজার যুবকর্মী হাওড়া ব্রিজ থেকে সকালবেলা মিছিলে পা মেলাবেন বলে জানান হাওড়া সদর যুব তৃণমূলের সভাপতি কৈলাস মিশ্র। হাওড়া স্টেশন ফেরিঘাটের তিনটি জেটি থেকে ছ’টি লঞ্চ দিনভর পরিষেবা দেবে। পাশাপাশি রাজ্য পরিবহণ দপ্তর পাঁচটি লঞ্চের ব্যবস্থা রেখেছে বলে জানান হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমিতির ডিরেক্টর অজয় দে।