Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ওলাবিবিতলায় সুইমিং পুলের কাঠামো ৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত

মধ্য হাওড়ার ঘিঞ্জি এলাকা ওলাবিবিতলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল তৈরির পরিকল্পনা ছিল। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে সেই কাজ শুরুও করেছিল পুরসভা।

ওলাবিবিতলায় সুইমিং পুলের  কাঠামো ৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মধ্য হাওড়ার ঘিঞ্জি এলাকা ওলাবিবিতলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল তৈরির পরিকল্পনা ছিল। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে সেই কাজ শুরুও করেছিল পুরসভা। কিন্তু বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার বিরুদ্ধে নির্মাণকাজে অসঙ্গতি, আর্থিক তছরুপ সহ নানা অভিযোগে এক বছর পরেই ধামাচাপা পড়ে যায় গোটা প্রকল্প। তারপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে সুইমিং পুলের অর্ধসমাপ্ত সেই কাঠামো। ভিতরে আবর্জনা ও জল জমে সেটি পরিণত হয়েছে মশার আঁতুরঘরে। পরিকল্পনাহীন এই কাজের ফলে নষ্ট হয়েছে প্রায় এক বিঘা আয়তনের বেজপুকুর। আবর্জনার দখলে চলে গিয়েছে পার্শ্ববর্তী খেলার মাঠও।

Advertisement

২০১৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেস হাওড়া পুরসভায় ক্ষমতায় আসার পর জেলায় খেলাধুলোর মানোন্নয়নে একটি আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন পুরবোর্ড। মধ্য হাওড়ার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ওলাবিবিতলায় প্রায় ৩২ কোটি টাকায় ওই সুইমিং পুলটি তৈরি করার কথা ছিল। ঠিক হয়েছিল, চারটি পৃথক সুইমিং পুলের পাশাপাশি মার্কেট কমপ্লেক্সও তৈরি হবে। শিশু ও বড়দের জন্য থাকবে আলাদা সুইমিং ইনস্টিটিউট। সৌন্দর্যায়ন হবে বেজপুকুরের। ঘিঞ্জি সরু রাস্তার দু’পাশে থাকা অস্থায়ী দোকানগুলিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বেজপুকুরের পাশে খেলার মাঠে। ২০১৭ সাল নাগাদ একটি সংস্থাকে এই প্রকল্পের বরাত দেওয়া হয়। কিন্তু এক বছর পরেই বন্ধ হয়ে যায় কাজ। সেই সংস্থার বিরুদ্ধে নির্মাণে একাধিক ত্রুটি ছাড়াও আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠে। জানা গিয়েছে, পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হলে নতুন প্রশাসকমণ্ডলীর কাছে বকেয়া টাকা চায় ওই সংস্থা। কিন্তু নির্মাণে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে টাকা দিতে অস্বীকার করে পুরসভা। এরপর হাইকোর্ট পর্যন্ত বিষয়টি গড়ালে সংস্থাটির কাজে বেনিয়ম ধরা পড়ে। তারপর থেকে আট বছর ধরে অর্ধনির্মিত অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে সুইমিং পুলের কঙ্কালসার কাঠামো।
বর্তমানে সেই কাঠামোর ভিতরেই রাখা হচ্ছে যাবতীয় নির্মাণ সামগ্রী। রিজার্ভারগুলিতে জল জমায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। সুইমিং পুলের সামনের অংশে তৈরি হয়েছে একটি বড়ো ভ্যাট। এদিকে, রাস্তা থেকে উচ্ছেদ হওয়া অস্থায়ী দোকানগুলি রয়ে গিয়েছে পাশের মাঠেই। আবর্জনার ভিড়ে সবুজ হারিয়েছে সেই খেলার মাঠ। শুধু তাই নয়, পরিকল্পনাহীন এই প্রকল্পের কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বেজপুকুরের জল। পুকুরের পাশের অংশ আবর্জনা ফেলে বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাঁক জমে পুকুরের জল বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে। বাড়ছে সাপের উপদ্রব। তাঁদের অনেকেই বলেন, ‘এরকম একটি সরু রাস্তার পাশে কখনও আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুল তৈরি করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও জোর করে ওই প্রকল্প করতে গিয়ে ঐতিহ্যবাহী বেজপুকুর, খেলার মাঠ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে অন্তত পুকুর ও মাঠ বাঁচানো হোক।’ হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘সুইমিং পুলের প্রকল্প আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা জানা নেই। তবুও পুরসভা বেজপুকুর বুস্টার পাম্পিং স্টেশনটি তৈরি করেছে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ