দুবাই: প্লাস্টিকে জড়ানো খান দুই ব্যাট। একেবারে নতুন। টিমবাস থেকে ব্যাট দু’খানা বগলদাবা করেই মাঠে ঢুকলেন সূর্যকুমার যাদব। ডানকাঁধে ঝুলছে ব্যাগ। বাঁ-হাতে রয়েছে ফ্লাস্ক আর জলের ছোট বোতল। মঙ্গলবার প্র্যাকটিসে নামার সময় ভারত অধিনায়ককে দেখাল একেবারে চনমনে মেজাজে। পাকিস্তানকে শুধু কান মুলে হারানোই নয়, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানার প্রতিবাদ করতে পারাও যার বড় কারণ। মহারণে ছক্কা মেরে জেতান দলকে। পুরস্কার বিতরণের মঞ্চে সেই জয় উৎসর্গ করেন সেনাবাহিনীকে। তারপর জন্মদিনের কেক কাটেন ‘স্কাই’।
ভারতীয় দল অবশ্য দ্রুত উৎসবের আবহ থেকে ফিরছে প্রতিবাদী চেহারায়। এদিন যেমন পাকিস্তানের সঙ্গে একই সময় পাশাপাশি মাঠে অনুশীলন করতে আপত্তি জানায় টিম ইন্ডিয়া। সলমন আগা, শাহিন আফ্রিদিদের মুখোমুখি হতে এতই অনীহা যে ঘণ্টাখানেক আগেই শেষ করে দেওয়া হয় প্র্যাকটিস। দুবাইয়ের আইসিসি অ্যাকাডেমিতেই ট্রেনিং ছিল উভয় দলের। সূচি অনুসারে, ভারতের অনুশীলনের শেষপর্বে পাশের মাঠে নেমে পড়ত সলমন আগার দল। কিন্তু হাত না মেলানোর বিতর্ক এতটাই উত্তপ্ত যে নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘণ্টা আগে প্র্যাকটিসের সমাপ্তি ঘোষণা করেন কোচ গৌতম গম্ভীর।
বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে হারালে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার ফোরে উঠবে পাকিস্তান। সেক্ষেত্রে রবিবার ফের সলমন আগার সঙ্গে টস করতে যাবেন সূর্য। টিম ইন্ডিয়া ঠিক করেছে যে আপাতত পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো হবে না। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্তই থাকবে। এদিন টিম ইন্ডিয়া যেভাবে তড়িঘড়ি প্র্যাকটিস শেষ করল, তাতেও স্পষ্ট সেই বার্তা।
সুপার ফোরে উঠে যাওয়া ভারত শুক্রবার খেলবে ওমানের বিরুদ্ধে। কার্যত যা নিয়মরক্ষার ম্যাচ। সেই মোকাবিলায় বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে যশপ্রীত বুমরাহকে। পরিবর্তে খেলার সম্ভাবনা অর্শদীপ সিংয়ের। নেটে লম্বা স্পেল করলেন তিনি। এখনও ব্যাট হাতে দেখা যায়নি সঞ্জু স্যামসন, হার্দিক পান্ডিয়াকে। তাঁদের ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভারত-পাক ম্যাচের টেনশন যেমনই থাক, ক্রিকেটাররা রয়েছেন ফুরফুরে মেজাজে। শুভমান গিল, তিলক ভার্মা ব্যাটিংয়ের ফাঁকে আড্ডাও দিলেন। পকেটে ৭ উইকেট, দুটো ম্যাচেরই সেরা কুলদীপ যাদবের কানে বুমরাহর মতোই ইয়ারফোন। নিশ্চিতভাবেই বাজছিল মিউজিক। নাহলে সমর্থকদের প্রবল ডাকেও সাড়া দেবেন না কেন চায়নাম্যান বোলার? সবার আগে টিমবাস থেকে বেরনো কোচ গৌতম গম্ভীর তো একবার ডাকতেই এগিয়ে এলেন। বাড়িয়ে দেওয়া ছোট ব্যাটে অটোগ্রাফও দিলেন।
টুকরো টুকরো ছবিতেই পরিষ্কার, চাপের প্রশ্ন নেই। বরং আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছে ভারত। শরীরী ভাষাতে যেন চুঁইয়ে পড়ছে আগ্রাসন।