Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাশীপুর রাজবাড়ির সূর্যমন্দির রাজ ঐতিহ্য বহন করে চলেছে আজও

পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর রাজবাড়ি এখনো রাজ ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। তাই রাজবাড়ি দেখতে প্রতিদিন কয়েকশো পর্যটক আসেন

কাশীপুর রাজবাড়ির সূর্যমন্দির রাজ ঐতিহ্য বহন করে চলেছে আজও
  • ১০ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর রাজবাড়ি এখনো রাজ ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। তাই রাজবাড়ি দেখতে প্রতিদিন কয়েকশো পর্যটক আসেন। তবে, পর্যটকদের ভিতরে ঢোকার অধিকার নেই। সেই রাজবাড়ির ভিতরে সূর্যঘর নামে একটি ঘর বিদ্যমান রয়েছে। প্রাচীন সূর্যঘর রাজকীয় ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে চলেছে। এখনো সেই ঘর থেকে দিব্যি সূর্যের আলো দেখা যায়।

Advertisement

জেলার ঐতিহাসিক রাজবাড়ির অন্যতম আকর্ষণ সূর্যঘরটি একসময় রাজবংশের দৈনন্দিন ধর্মীয় আচারের কেন্দ্রস্থল ছিল। প্রাচীনকালে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে রাজারা সেই সূর্যঘর থেকে সূর্যদেবতাকে প্রণাম ও পূজা করতেন। রাজবংশের জীবনে সূর্যোপাসনা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার। সেই ঐতিহ্যেরই নিদর্শন হয়ে আজও অক্ষত অবস্থায় সূর্য ঘরটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। চুন-সুরকির বিশেষ নির্মাণশৈলীতে তৈরি এই স্থাপত্য নিদর্শন দর্শনার্থীদের আজও বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
বর্তমানে রাজবাড়ির পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা বেলা বাউরি বলেন, এখন আর সেই রাজতন্ত্র নেই। কিন্তু তাঁদের স্মৃতি রয়ে গিয়েছে। একসময় এই সূর্যঘর থেকেই রাজারা সূর্য দর্শন করতেন এবং প্রতিদিন সূর্য দেবতার পুজা করতেন। সূর্যঘরের পরিবেশে আজও এক ধরনের মরমী আবহ অনুভূত হয়। ইতিহাস ও সংস্কৃতির অনুরাগীদের কাছে এটি শুধু একটি স্থাপত্য নয়, বরং রাজবংশের জীবনযাত্রা, ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচীন প্রথার জীবন্ত সাক্ষ্য। কাশীপুর রাজবাড়ির সূর্যঘর তাই আজও অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক অনন্য সেতুবন্ধন রচনা করে চলেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, রাজবাড়িতে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। তবে, দুর্গা পুজোর সময় চার দিন রাজবাড়ির দরজা সকলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এছাড়া রাজবংশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পরিচিত ব্যক্তি হলে ঢোকার অধিকার মেলে। তাই ভিতরে প্রবেশের অধিকার না থাকলেও রাজবাড়ির সামনের দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন পর্যটকরা আসেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ