Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে শহরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে শহরতলি, মহোৎসবে রবিকবির ‘হাট’ থেকে লোক সংস্কৃতির থিমে সাজছে চণ্ডীতলা-পাণ্ডুয়া

থিম নির্ভর দুর্গাপুজো যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তেমনই ভাবনার দৃশ্যায়নের ব্যাপ্তি ঘটেছে। আবার বড়পুজো বা বিগ বাজেটের পুজো মানেই শহরকেন্দ্রিক, সেই ধারণাটাও বদলেছে।

হুগলিতে শহরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে শহরতলি, মহোৎসবে রবিকবির ‘হাট’ থেকে লোক সংস্কৃতির থিমে সাজছে চণ্ডীতলা-পাণ্ডুয়া
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: থিম নির্ভর দুর্গাপুজো যেমন জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তেমনই ভাবনার দৃশ্যায়নের ব্যাপ্তি ঘটেছে। আবার বড়পুজো বা বিগ বাজেটের পুজো মানেই শহরকেন্দ্রিক, সেই ধারণাটাও বদলেছে। অন্তত হুগলিতে সেটাই বাস্তব। শহরের পাশাপাশি শহরতলিও বড়পুজোর আয়োজনে চমক দিচ্ছে। থাকছে থিম, তথাকথিত বড়পুজোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার আন্তরিক প্রয়াস। এতে অবশ্য সোনায় সোহাগা দর্শনার্থীদের। পুজোর চারদিনই তাঁরা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে মণ্ডপ, প্রতিমা দেখার সুযোগ পাবেন। চুঁচুড়া, শ্রীরামপুর, ডানকুনির মতো জনপদ ছাড়িয়ে গ্রামীণ হুগলির দিকেও পুজোর চারদিন ঢল নামবে দর্শনার্থীদের। স্থানীয় বাসিন্দারা পাড়ার পুজোর শ্রীবৃদ্ধি নিয়ে মুখর হয়ে উঠছেন। দশভুজার মহাপার্বণের জাঁক বিস্তৃত থেকে বিস্তীর্ণ হচ্ছে।

Advertisement

ডানকুনিতে থিমপুজোর চল বহুচর্চিত। তার থেকে বেশি দূরে নয় চণ্ডীতলার শিয়াখালা। সেখানেই আছে শুকতারা ক্লাব। গত কয়েক বছর ধরে নিজস্ব দর্শকবৃত্ত তৈরি করতে পেরেছেন সেখানকার পুজো উদ্যোক্তারা। এবারও বিরাট আয়তনের মণ্ডপ, বর্ণময় মণ্ডপসজ্জা দিয়ে পুজোর পসরা সাজিয়েছেন ক্লাবকর্তারা। তাদের এবারের থিম ‘রবিকবির মাধুরীমাখা’। বাঙালির অন্যতম প্রাণের কবিতা, ‘কুমোরপাড়ার গোরুর গাড়ি’। সেটির ভাব ও ভাবনাকেই থিম করা হয়েছে। শিয়াখালা শুকতারা ক্লাবের পুজোর মাঠে ইতিমধ্যেই মাথা তুলেছে এক টুকরো গ্রাম। তিনতলা মাটির বাড়ির চাতালে দেবীর বোধনের আয়োজন তুঙ্গে। এই পুজো মণ্ডপের সামনেই থাকবে গ্রামীণ হাট। বংশীবদন আর ভাগ্নে মদন যেমন থাকবে, তেমনই থাকবে তাদের কলসি, হাঁড়ি বোঝাই গোরুর গাড়িও। সাবেক গ্রাম্যপুজোর আদলটাই তুলে আনা হচ্ছে মণ্ডপে। রবিকবির কবিতার প্রত্যেকটি ছত্রকে ফুটিয়ে তুলেই মণ্ডপের অন্দরসজ্জা করা হচ্ছে। দেবী মণ্ডপে থাকবেন সাবেকি ধাঁচে। আলোকসজ্জা থাকবে থিমের আদলে। ক্লাবকর্তা শুভঙ্কর বৈদ্য বলেন, গ্রাম ও রবীন্দ্রনাথের কবিতাই আমাদের থিমের আধার। কবিতার এক চূড়ান্ত বাস্তবায়ন দেখা যাবে আমাদের পুজোমণ্ডপে। গত কয়েক বছরে আমরা প্রচুর দর্শক পেয়েছি, যাঁরা এই অঞ্চলের বাসিন্দা নন। দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এসেছেন। এই জনপ্রিয়তাকে ধরে রাখতে সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এমনিতে কালীপুজোর আড়ম্বরের জন্য পরিচিত পাণ্ডুয়া। গত পাঁচ-ছ’বছর হল এখানে দুর্গাপুজোও মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাণ্ডুয়ার রামেশ্বরপুর দক্ষিণপাড়া বারোয়ারি এবার বিগ বাজেটের পুজোর আয়োজন করেছে। কিছুটা কাকতালীয় হলেও সেখানে গ্রামবাংলাকেই আধার করে থিম করা হয়েছে। দক্ষিণপাড়া বারোয়ারি মূলত লোকসংস্কৃতিকে আশ্রয় করে গ্রামবাংলার পটচিত্র নির্মাণ করছে। এখানে পট-শিল্প এবং পট-ভূমি— দু’টি বিষয়কেই তুলে ধরা হচ্ছে। গ্রামের পরিবেশে পটশিল্পকে তুলে ধরে অভিনব নির্মাণে মেতেছেন উদ্যোক্তারা। ক্লাবকর্তা জয়ন্তকুমার ঘোষ বলেন, পটশিল্প থেকে বাউল, সাবেক দেবদেউল থেকে মাটির বাড়ি, ধানজমি সবই তুলে ধরা হবে। দেবী থাকবেন সাবেক ধাঁচে।
শারদীয়া সুবাস ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। মেঠো পথে পাপড়ি বিছিয়ে দিচ্ছে শেফালি। থিম থেকে আড়ম্বর ছড়িয়ে যাচ্ছে শহর থেকে গ্রামে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ