


অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর শহর পার করে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঢুকতেই কিছুদূর এগিয়ে গেলেই ভীমপুর বাজার। সকালে ব্যস্ত বাজারে বহু মানুষ কেনাকাটা করতে আসে। আট থেকে আশি ভিড় করেন এই বাজারে। এই ভীমপুর বাজারে কাজ পাতলেই শোনা যায়, এলাকার কোন তৃণমূল নেতা দলের ক্ষতির চেষ্টা করছে কিংবা বিজেপির কোন নেতা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
কথা হচ্ছিল সেলুনে আসা এক প্রৌঢ় সুরজিৎ অধিকারীর সঙ্গে। কিছুটা বিরক্তির সুরেই তিনি বলেছিলেন, ভোট দিয়েও সারা বছর বিজেপিকে পাশে পাই না। শুধু ভোটের সময় দেখতে পাই। বাজার করতে আসা মনোজ সরকার বলেন, এখানকার লোকজন বিজেপিকে ভোট দেয়। কিন্তু, তাতে এখানে রাজ্য সরকারের কোনো প্রকল্প বন্ধ হয়নি। আর এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজও হয়েছে। এটা নিন্দুকেও মানবে। ভোটের ফল যাই হোক না কেন, বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে হাওয়া বদলের আভাস দিলেন সুরজিৎ ও মনোজবাবুরা।
এবার এই কেন্দ্রের অলিগলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন এবং বিজেপির মেরুকরণের ভোট হচ্ছে। শুক্রবার রাতে কৃষ্ণনগর শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে পথসভায় বিজেপি প্রার্থী তারক চট্টোপাধ্যায় মেরুকরণের অস্ত্রেই শান দিচ্ছিলেন। আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিষেবা ও উন্নয়নকেই ঢাল করছেন তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ দত্ত। দীর্ঘ সময় তিনি কৃষ্ণনগর লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ছায়াসঙ্গী হয়ে থেকেছেন। সেই সুবাদেই গ্রাম থেকে শহর তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। ভোটে জিতে কৃষ্ণনগর শহরকে ঢেলে সাজানো থেকে শুরু করে গ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে চান সোমনাথবাবু। এছাড়াও যানজট সমস্যার সমাধান, কদমতলা ঘাটের সৌন্দর্যায়ন, কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পী, প্রতিমাশিল্পী ও সাজশিল্পীদের এক ছাতারতলায় এনে এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী।
সোমনাথবাবু বলেন, এই কেন্দ্রে বিগত তিনটি নির্বাচনে বিজেপি জিতেছিল। তারপরেও উন্নয়ন ও সরকারি পরিষেবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। সেখানে বিজেপি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ধর্মীয় মেরুকরণে মানুষে মানুষে বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে কৃষ্ণনগর শহরের ২৫টি ওয়ার্ড এবং পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। শেষবার ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে তৃণমূল জিতেছিল। কিন্তু, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি ৫০ হাজারের বেশি ভোটে লিড পেয়েছিল। চব্বিশের লোকসভায় কৃষ্ণনগর শহরের ২৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪টিতেই তৃণমূল হেরেছে। যদিও পুরসভা তৃণমূলের দখলেই রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রয়াত বিধায়ক মুকুল রায় বিজেপির টিকিটে জিতে তৃণমূলে ফিরেছিলেন। যদিও ভোটে জেতার পর তাঁকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। তা নিয়েও মানুষের ক্ষোভ রয়েছে।
এই কেন্দ্র ওপার বাংলার মানুষের ভোট বড়ো ফ্যাক্টর। ভীমপুর, আসাননগর, পোড়াগাছা, দোগাছি এলাকায় বহু ওপার বাংলার মানুষের বসবাস। এসআইআরের কারণে এই কেন্দ্রের ১২ হাজার ৭৬৪ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে ১১ হাজার ৯৮৯ জনের নাম পড়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার কমেছে প্রায় ২৮ হাজার। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই পরিসংখ্যান দুই ফুল শিবিরের কাছেই চিন্তার কারণ।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘তৃণমূল নেতাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে শহরের মানুষ পুর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর জবাব মানুষ দেবে।
২০১১ সালের পর ফের এই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে বামেরা। হারানো ভোটব্যাংক ফিরে পেতে মরিয়া সিপিএম। সিপিএম প্রার্থী অদ্বৈত বিশ্বাস বলেন, বিজেপি ও তৃণমূলের উপর মানুষের আর বিশ্বাস নেই। মানুষ বিকল্প খুঁজছে।