Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাঁড়ার শূন্য, রক্ত লাগলে আগে পাঁচজন ডোনার আনার ‘নির্দেশ’

বারবার আবেদন জানিয়েও মিলছে না রক্ত। এই পরিস্থিতিতে ঘোর সংকটে জলপাইগুড়ি মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংক। ভাঁড়ার ‘শূন্য’ হয়ে যাওয়ায় কারো রক্ত লাগলে আগাম পাঁচজন ডোনার আনতে বলা হচ্ছে।

ভাঁড়ার শূন্য, রক্ত লাগলে আগে পাঁচজন ডোনার আনার ‘নির্দেশ’
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বারবার আবেদন জানিয়েও মিলছে না রক্ত। এই পরিস্থিতিতে ঘোর সংকটে জলপাইগুড়ি মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংক। ভাঁড়ার ‘শূন্য’ হয়ে যাওয়ায় কারো রক্ত লাগলে আগাম পাঁচজন ডোনার আনতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই সংকটজনক যে, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে রক্ত জোগাড় করতে গিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে। 

Advertisement

মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংক সূত্রে খবর, জরুরি পরিস্থিতি ছাড়াও রোজ যেখানে গড়ে ৫০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়, সেখানে শিবির থেকে গোটা মাসে ২৫০-৩০০ ইউনিটের বেশি রক্ত সংগ্রহ হচ্ছে না। 
অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকায় গত তিনমাস ধরে সেভাবে রক্তদান শিবির হয়নি জলপাইগুড়িতে। ফলে সংকট মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এমনিতেই গরমে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমে যায়। তার উপর সামনে ভোট। ফলে পরিস্থিতি যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভেবে পাচ্ছে না জলপাইগুড়ি মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। 
সূত্রের খবর, ব্লাড ব্যাংকে নেগেটিভ গ্রুপের কোনো রক্ত মজুত নেই। পজিটিভ গ্রুপের রক্তও ডোনার ছাড়া মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে ব্লাড ব্যাংকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সন্তান প্রসবের সময় রক্ত লাগতে পারে, এমন ক্ষেত্রে আগেভাগে অন্তসত্ত্বার পরিবার বা আশপাশের পাঁচজন ডোনারকে চিহ্নিত করে রাখতে হবে। তাঁদের নাম, ফোন নম্বর এলাকার আশাকর্মীরা রেখে দেবেন। ওই অন্তসত্ত্বার রক্তের দরকার পড়লে ডোনারদের ব্লাড ব্যাংকে এসে রক্ত দান করতে হবে। 
মেডিকেলের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, রক্তের মারাত্মক সংকট চলছে। আমরা কলেজের পড়ুয়াদের কাছে আবেদন রেখেছি, তারা যাতে রক্তদানে এগিয়ে আসে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি কর্মীর কাছেও আমরা এনিয়ে আবেদন রেখেছি। 
জলপাইগুড়ি সদরের ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রীতম বসু বলেন, কয়েক দিন আগে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক শিশুর বাবা রক্তের জন্য আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি করেন। তিনি জানান, ব্লাড ব্যাংকে রক্ত মিলছে না। তারপরই আমরা রক্ত দিতে উদ্যোগী হই। বৃহস্পতিবার বেলাকোবা গ্রামীণ হাসপাতালে ক্যাম্প করে আমি নিজে রক্ত দিয়েছি। 
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংকের ইনচার্জ ডাঃ অনিন্দ্যপ্রকাশ ঘোষের দাবি, আগে একটা শিবির থেকে যেখানে ৮০-৯০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ হতো, এখন ২০-৩০ ইউনিটের বেশি মিলছে না। তাছাড়া শিবিরের সংখ্যা আগের থেকে অনেক কমে গিয়েছে। ফলে কোনোমতেই সামাল দেওয়া যাচ্ছে না পরিস্থিতি। তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের দেওয়ার জন্য প্রতিমাসে গড়ে ৮০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। সময়ে রক্ত দিতে না পারলে তাদের জীবন সংশয় হতে পারে। কিন্তু কীভাবে ওই রক্ত জোগাড় হবে, সেটাই ভেবে পাচ্ছি না। রক্ত দিতে এগিয়ে আসার জন্য প্রত্যেকের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে। আমরা বলছি, ডোনারের সংখ্যা যদি কম হয়, তাহলে সরাসরি ব্লাড ব্যাংকে চলে আসতে পারেন। আমরা সেখানেই মাইক্রো ক্যাম্পের ব্যবস্থা করছি। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ