নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: শিলাবতীর বুক চিরে তৈরি আগুনরঙা গিরিখাত। চারপাশে সবুজ গাছের সারি। প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যে ইতিমধ্যেই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের অন্যতম ঠিকানা গড়বেতার গনগনি। ‘বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ হিসেবে পরিচিত এই পর্যটনকেন্দ্রকে এবার ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা শুরু করল নতুন সরকার। গনগনিতে তৈরি হতে চলেছে ডিয়ার পার্ক। পাশাপাশি ১০০ ফুট উচ্চতার ওয়াচ টাওয়ার এবং চিলড্রেন পার্ক তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে গড়বেতার বিধায়ক প্রদীপ লোধার।
বিধায়ক বলেন, আগের সরকার অনেক কিছুই করেনি। আমাদের লক্ষ্য গনগনিকে ঢেলে সাজানো। ডিয়ার পার্ক তো হবেই। এর সঙ্গে ওয়াচ টাওয়ার বসবে। নতুন করে গোটা এলাকাকে সাজিয়ে তোলা হবে। এর ফলে আগামী দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান হবে।
শীতের মরশুম এলেই গনগনিতে পর্যটকদের ঢল নামে। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের কাছে নদী, পাহাড়ি ভূমিরূপ এবং গিরিখাতের অপূর্ব সমন্বয় হয়ে ওঠে বাড়তি আকর্ষণ। নতুন করে ডিয়ার পার্ক, চিলড্রেন পার্ক এবং ১০০ ফুটের ওয়াচ টাওয়ার তৈরি হলে পর্যটকদের আনাগোনা আরও বাড়বে বলেই আশাবাদী স্থানীয়রা। ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে গনগনির বিস্তীর্ণ গিরিখাত ও শিলাবতীর দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা।
নদীর মাঝে প্রায় ৭০ ফুট গভীর আগুনরঙা খাদটির গড়ন অনেকটাই আমেরিকার অ্যারিজোনায় কলোরাডো নদীর তীরে অবস্থিত বিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই কারণেই গনগনি পরিচিতি পেয়েছে ‘বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ নামে। প্রকৃতির হাতে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এই ভূমিরূপ যেন কোনও শিল্পীর নিখুঁত হাতে তৈরি।
গনগনিকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথাও। জনশ্রুতি, পাণ্ডবরা এই এলাকায় এক ব্রাহ্মণ পরিবারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সময় জঙ্গলে ঘেরা এলাকায় বকাসুর নামে এক রাক্ষসের অত্যাচার চলত। পরে ভীমের সঙ্গে বকাসুরের তুমুল যুদ্ধ হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, সেই যুদ্ধের ফলেই শিলাবতীর তীরে তৈরি হয় এই গভীর খাদ।
শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, গনগনির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসও। স্থানীয়দের দাবি, চুয়াড়-লায়েক বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক অচল সিংহ এই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে পর্যটনকেন্দ্রটির উন্নয়নে এখনও একাধিক খামতি রয়েছে। পর্যাপ্ত আলোর অভাব, পরিচ্ছন্নতার সমস্যা-সহ নানা অসুবিধার মুখে পড়তে হয় পর্যটকদের।
চন্দননগরের বাসিন্দা শিক্ষক সুকমল ভৌমিক গনগনিতে বেড়াতে এসে বলেন, এত সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র বাংলায় খুব কম আছে। তবে আরও সাজিয়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। বিধায়কের উদ্যোগ খুবই ভালো। নদীর ধারে হরিণ ঘুরে বেড়ালে আরও সুন্দর লাগবে।
নতুন পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে গনগনি শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয়, গোটা বাংলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন পর্যটনপ্রেমীরা।