Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোয় উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেনের টিকিট শেষ ৪ মিনিটেই!

পায়ের নীচে সর্ষে রাখা বাঙালি যে পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে ভিড় জমাবে, এ আর নতুন কী! শুধু দার্জিলিং-কালিম্পং নয়, ভিড় উপচে পড়বে ডুয়ার্স সহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পর্যটনস্থলেও।

পুজোয় উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেনের টিকিট শেষ ৪ মিনিটেই!
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পায়ের নীচে সর্ষে রাখা বাঙালি যে পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে ভিড় জমাবে, এ আর নতুন কী! শুধু দার্জিলিং-কালিম্পং নয়, ভিড় উপচে পড়বে ডুয়ার্স সহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য পর্যটনস্থলেও। এবারও তার কোনো ব্যতিক্রম হচ্ছে না! ভ্রমণপিপাসুরা ইতিমধ্যে মোবাইল ঘেঁটে হোটেল, হোম স্টের খোঁজ শুরু করে দিয়েছেন। এই আবহে বড়ো প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে, ‘এত টিকিট কাটল কে?’ কারণ, বিক্রি শুরুর মাত্র চার মিনিটেই শেষ হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী ও সপ্তমীর দিনে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার সবক’টি ট্রেনের টিকিট! পাঁচ মিনিটের মাথায় আইআরসিটিসি অ্যাপে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার টিকিট কাটার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন অনেকে। নির্দিষ্ট উইন্ডোতে ‘রিগ্রেট’ লেখা ভেসে উঠেছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, রেলের সংরক্ষিত টিকিট বিক্রি শুরু হতে না হতেই সব ফুরিয়ে গেল কীভাবে? বন্দে ভারত, শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনেও একই চিত্র। টিকিট বিক্রিতে অস্বচ্ছতার অভিযোগও  উঠতে শুরু করেছে। 

Advertisement

তবে উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেনে টিকিটের এই হাহাকার দেখে এখানকার ট্যুরিস্ট স্পটগুলিতে পুজোর এবার পর্যটক উপচে পড়ার আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদেরও প্রশ্ন, টিকিট বিক্রি শুরুর তিন-চার মিনিটে সব টিকিট শেষ হয়ে যায় কীভাবে? এখানেই পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অসাধু ব্যক্তিদের কারসাজিতে এমন হয়ে থাকলে বহু মানুষ আগাম টিকিট না পেয়ে পুজোর ভ্রমণে উত্তরবঙ্গ থেকে মুখ ফেরাতে পারেন। সিআইআই উত্তরবঙ্গ শাখার পর্যটন বিভাগের চেয়ারম্যান সম্রাট সান্যাল বলছিলেন, ‘বহু পর্যটকের থেকে আমিও টিকিট নিয়ে এই কথা শুনলাম। এটা আমাদের কাছে বেশ অবাক লাগছে। আমরা বিষয়টি সংগঠনগতভাবে রেলকে লিখিতভাবে জানাব।’ তবে পুজোর ভ্রমণে উত্তরবঙ্গে আসার জন্য বিপুল সংখ্যক পর্যটক যে খোঁজখবর করছেন, তা অস্বীকার করেননি সম্রাটবাবু। বলেন, ‘পুজোর সময় আসার জন্য দক্ষিণবঙ্গসহ ভিন রাজ্যের পর্যটকদের খোঁজখবর ক্রমশ বাড়ছে। তবে হোটেল, লজ বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এখনই সেই চিত্র ধরা পড়ছে না। সাধারণত ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর হোটেল, লজ, হোমস্টে বুক করে থাকেন পর্যটকরা। তাঁরা নিজেরাই যদি এত টিকিট কেটে থাকেন, তাহলে কিছুদিনের মধ্যে হোটেল, লজ বুকিংয়ে তার প্রতিফলন মিলবে বলে আমরা আশাবাদী।’ 
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা অবশ্য এত দ্রুত সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘পুজোর ভ্রমণের জন্য সবাই অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করে সেইমতো আগাম টিকিট কাটার অপেক্ষায় থাকেন। কেউ নিজে, কেউ আবার এজেন্সির মাধ্যমে টিকিটের ব্যবস্থা করেন। ফলে বিক্রি শুরু হওয়া মাত্র সবাই একসঙ্গে টিকিট কাটায় এমনটা হতেই পারে। তবে যাঁরা টিকিট পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য পুজো স্পেশাল চালানোর চিন্তাভাবনা চলছে। শীঘ্রই সেই ঘোষণা হবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ