সংবাদদাতা, হলদিয়া: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় অতিবৃষ্টি ও প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত ধান ও পান চাষিদের জন্য ক্ষতিপূরণ তথা বিশেষ প্যাকেজের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলাগুলির বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের পর আজ, মঙ্গলবার রাতে হলদিয়ায় সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে জলমগ্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচাবাড়ির মালিকদের ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি। এদিন বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিট নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় এসে পৌঁছয় হলদিয়া ভবনে। রানীচকে মূল সড়ক জলমগ্ন থাকায় বালুঘাটা থেকে মেরিন ড্রাইভ হয়ে বাইপাস রোড ধরে হলদিয়া ভবন পৌঁছয় তাঁর কনভয়। সেখানে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিধায়কদের নিয়ে দু'ঘণ্টার বেশি সময় বন্যা পর্যালোচনার প্রশাসনিক মিটিং করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই মিটিংয়ে হলদিয়ার আইওসি সহ কয়েকটি শিল্প সংস্থার আধিকারিকরা ছিলেন। বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরাও ছিলেন এই বৈঠকে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হলদিয়া শিল্পাঞ্চল সহ জেলাগুলির বন্যা পরিস্থিতি ও জলমগ্ন অবস্থা নিয়ে সামগ্রিক মিটিং হয়েছে। বিভিন্ন ব্লকের বিডিওদের কাছ থেকে পরিস্থিতির কথা শুনেছি। বলেন, হলদিয়া পুরসভার ৬টি ওয়ার্ড, সুতাহাটার ৬২টি মৌজা, হলদিয়া ও মহিষাদল ব্লক মিলিয়ে ৮-৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এখন জলমগ্ন রয়েছে। কেলেঘাইয়ের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সেচ দপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওখানে বিপদসীমার উপর দিয়ে জল বইছে। মানুষজনকে সরিয়ে আনা হয়েছে। বাঁধগুলোতে প্রি-মনসুন কাজ হয়েছিল বলে ভাঙন হয়নি। কিন্তু কেলেঘাই বিপজ্জনক জায়গায় রয়েছে।
এদিন তিনি পুলিশ এবং সেচকে যৌথভাবে নজরদারি চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। পটাশপুরের কেলেঘাইয়ের নদীবাঁধ পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে মানুষকে সরাতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিবকে ওআরএস এবং হ্যালোজেন পর্যাপ্ত পরিমাণে পাঠাতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। হলদিয়া এলাকায় ২০টি সাপে কাটা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সকলেই সুস্থ রয়েছেন বলে এদিন স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশংসা করেন। জানান, সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত সাপের প্রতিষেধক এভিএস রয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এদিন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসককে(সাধারণ) ১৫ হাজার রিলিফ কিট তৈরির নির্দেশ দেন। ত্রাণ শিবির থেকে বাড়ি ফেরার সময় দুর্গত মানুষের হাতে দেওয়া হবে। যাতে ৩-৫ দিনের খাদ্য সামগ্রী থাকবে। এছাড়া আজ মিটিংয়ের আগে হলদিয়া অগ্নিকাণ্ডে মৃত ও জখমদের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেকও তুলে দেন।