নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গ্রামবাংলায় উৎপাদিত বিশ্বমানের চালকে বাংলা তথা দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এবার ‘বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ড’-এর আওতায় আনা হবে। বুধবার হুগলিতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিন বৈঠকটি হয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী অরূপ রায়, কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না, বিভাগীয় সচিবদের উপস্থিতিতে জেলাশাসকের দপ্তরে। সেখানে আধুনিক সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের উপর জোর দেওয়া হয়। এ বিষয়ে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিল্প স্থাপনের লক্ষ্যে পদক্ষেপ করতে বলেছেন বিভাগীয় কর্তারা। একইভাবে হুগলির উন্নতমানের আম বিদেশে রপ্তানি করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, এদিনই হুগলি থেকে রাজ্যজুড়ে স্কুলে স্কুলে আদা চাষের প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে। বিশেষ ধরনের ব্যাগে স্কুলের পরিধির মধ্যেই যেমন এই চাষ সহজে করা যাবে, তেমনই আদা ও রসুন চাষ বৃদ্ধির নিরিখে প্রচারও হবে। মন্ত্রী অরূপ রায় এদিন উদ্যানপালন দপ্তরের সেন্টার অব এক্সিলেন্সে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। হুগলির দু’টি স্কুল কর্তৃপক্ষ এদিন সেখানে উপস্থিত ছিল।
বৈঠকের পর মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, আমাদের ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু প্রয়োজন। এ রাজ্যে তার থেকে অনেক বেশি আলু উৎপাদিত হয়। সেই আলু সঠিকভাবে যাতে ব্যবহার করা হয়, সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি। সেইসঙ্গে অন্যান্য সব্জি যেমন, টম্যাটো, বাধাঁকপি এবং আম, কলাও প্রক্রিয়াকরণ করা প্রয়োজন। তাতে উৎপাদিত ফসল কোনওভাবেই নষ্ট হবে না। উল্টে অনেক বেশি দামে সময়ে, অসময়ে বিক্রি করা যাবে। আমরা শিল্পোদ্যোগীদের এই কাজে উৎসাহিত করতে চাই। হুগলিতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের বিরাট সুযোগ আছে।
মন্ত্রী বেচারাম বলেন, আলু প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে একটি সুসংগঠিত আলোচনা হয়েছে। নানা বহুজাতিক ব্র্যান্ডের চাল বাহারি প্যাকেজ করে বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে বাংলার চাল অনেক উন্নত হলেও কোথাও কোথাও বিপণনের কৌশলে পিছিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই চাল বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ডের মাধ্যমে বিক্রির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিশদে আলোচনা করেছি। এ নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, হুগলিতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে এক হাব গড়ে তোলা যেতে পারে। হুগলিতে আলু, আম, কলা সবই উন্নতমানের। হুগলি জেলা উদ্যানপালন বিভাগের আধিকারিক শুভদীপ নাথ বলেন, প্রতিটি জেলা থেকে ২০টি করে স্কুলকে নিয়ে গ্রো-ব্যাগস পদ্ধতিতে আদা চাষ করানো হবে। তা যেমন স্কুলের কাজে লাগবে, তেমনই আদা চাষ সম্প্রসারণ নিয়ে প্রচার হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে প্রচুর শিল্পোদ্যোগী এসেছিলেন। ছিলেন রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিরাও।