


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবারও রাজ্যে আলুর প্রচুর ফলন হতে চলেছে। আলুর ফলন বেশি হলে হিমঘরের উপর চাপ বাড়ে। আলু মজুত করার আগ্রহ বাড়ে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে ছোটো ও প্রান্তিক চাষিদের আলু হিমঘরে রাখতে যাতে সমস্যা না হয়, তার জন্য ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। হিমঘরগুলিতে ৩০ শতাংশ জায়গা ছোটো ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য সংরক্ষিত রাখার বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে। এই সংরক্ষিত অংশে আলু রাখার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করবে প্রশাসন। জেলাশাসকের হাতে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিডিও, পঞ্চায়েত অফিসের মাধ্যমে তা রূপায়িত হবে। কিষান ক্রেডিট কার্ড, কৃষকবন্ধু প্রকল্প ও সরকারি শস্য বিমা প্রকল্পের কাগজ দেখিয়ে সংরক্ষিত জায়গায় আলু রাখতে পারবেন ছোটো চাষি। হিমঘর মালিক ও আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে যে ৫০০’র বেশি হিমঘর আছে, সেখানে চেপেচুপে প্রায় ৮০ লক্ষ টন আলু সংরক্ষণ করা যায়। গত বছর ৭৩ লক্ষ টন আলু সংরক্ষিত হয়েছিল হিমঘরে। এবার এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে এর থেকেও বেশি আলু মজুত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন চাষিরা নতুন আলু বিক্রি করে প্রতি কেজিতে ৭-৮ টাকা দাম পাচ্ছেন। এই দাম লাভজনক নয় বলে ব্যবসায়ী মহলও মনে করছে। ১ মার্চ থেকে হিমঘর খোলার পর সেই আলুর দাম কত হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সব মহলের। চাষিদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারা কতটা সস্তায় আলু পাচ্ছেন, সেদিকে নজর রাখছে সরকার। প্রচুর ফলন হওয়ার জন্য এবার সরকার ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করে কিছু আলু কিনলে ভালো হয় বলে মনে করছেন চাষিরা। কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্যে ভোট। তাই এবার চাষিরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছে। তাছাড়া সরকারের হাতে কিছু পরিমাণে আলু থাকলে তা আগামী দিনে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজ্যে এবার আলুর ফলন এক কোটি টনের অনেকটা বেশি হতে পারে বলে সরকারি তরফে মনে করা হচ্ছে। নতুন আলুর একটা বড় অংশ সরাসরি বাজারে চলে আসে। জানুয়ারি থেকে তা শুরু হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত মাঠ থেকে ওঠা নতুন আলু বাজারে আসবে। সাধারণত মে মাস থেকে হিমঘরের আলু বের হয়। প্রতি মাসে রাজ্যের ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলির চাহিদা মেটাতে ৫- ৬ লক্ষ টন মতো আলু প্রয়োজন হয় বলে জানিয়েছেন প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির নেতা লালু মুখোপাধ্যায়। এপ্রিল পর্যন্ত এভাবে অন্তত ২০-২৫ লক্ষ টন আলু চলে যাবে। যে পরিমাণ আলু অবশিষ্ট থাকবে, তা হিমঘরে রাখার জন্যই ‘প্রতিযোগিতা’ হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে চাষির কাছ থেকে সস্তায় আলু কিনে তা হিমঘরে মজুত রেখে একচেটিয়া কারবার না চালাতে পারেন, তার জন্যই এই ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ।