নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাতে সময় মাত্র আর পাঁচ মাস। টার্গেট ৩০ কোটি শ্রমদিবস সৃষ্টি! ২০২৭ সালের ২১ মার্চের মধ্যেই তা করতে হবে নবান্নকে। অথচ মোদি সরকারের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ ভিবি-জি রাম জি (১২৫ দিনের কাজ) প্রকল্পে ডবল ইঞ্জিন রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়েছে মাত্র ৪৫ লক্ষের কিছু বেশি শ্রমদিবস। পরিসংখ্যানে দেশের সবকটি রাজ্যের মধ্যে একেবারে তলানিতে। তাই এবার গ্রামীণ থানাগুলির পাঁচিল নির্মাণ ও সারাইয়ের মতো পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণের কাজও ‘ভিবি-জি রাম জি’-র মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। এই প্রকল্পে গতি আনার লক্ষ্যে আজ, বুধবার বিধাননগরে পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে একেবারে বিডিও স্তর পর্যন্ত ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ২৪ ঘণ্টা আগেই, মঙ্গলবার ১২৫ দিনের কাজের বরাদ্দ ব্যবহার করে থানার সীমানা পাঁচিল, কমিউনিটি হল, গাড়ি রাখার ছাউনি, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, সৌরবাতি এবং শৌচাগার তৈরির সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তি আকারে পৌঁছাল জেলায়। উদ্দেশ্য একটাই—পরিসংখ্যানগতভাবে অন্যান্য রাজ্যের কাছাকাছি পৌঁছানো। নবান্নের অবশ্য দাবি, গ্রামীণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাধারণের নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ।
কিন্তু কেন ১২৫ দিনের কাজে পিছিয়ে পড়ছে বাংলা? প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে এ রাজ্যে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ ছিল। ফলে আড়াই কোটি জব হোল্ডারের অধিকাংশই বিকল্প কাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকে রাজ্যের বাইরে। তাছাড়া পালাবদলের পর পঞ্চায়েত প্রধানদের অনুপস্থিতিও গ্রামোন্নয়ন প্রকল্প রূপায়ণে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনে বদল এনে আধিকারিকদের ক্ষমতা বৃদ্ধির টোটকা কাজে লাগেনি। দুর্গাপুজোর সময় বাড়িতে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা অংশকে আটকানো যাবে বলে আশাবাদী ছিল সরকার। সূত্রের খবর, সেই পরিকল্পনাও দানা বাঁধছে না। সেই কারণে বর্তমানে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অমৃত সরোবর প্রকল্পের অধীন ২০০ পুকুর কাটার প্রকল্প ভিবি-জি রাম জি-র মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নবান্ন। তার সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে গ্রামীণ এলাকার থানার পরিকাঠামো উন্নয়নও। রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, থানাগুলিকে কেন্দ্র করে মোট ২৫০টি পরিকাঠামোগত কাজ হবে। সর্বাধিক ২২টি করে কাজের টার্গেট উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। এছাড়া পশ্চিম বর্ধমানে ৪টি এবং কালিম্পং ও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকায় ৩টি করে কাজের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সর্বাধিক খরচও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ১৭ নভেম্বরের মধ্যে থানাগুলির পরিকাঠামোগত ফাঁক চিহ্নিত হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবে কাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে থানার হাতে ‘স্থায়ী সম্পদ’ তুলে দেওয়াই টার্গেট। এই উদ্যোগে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য অর্থ কমিশন, স্বচ্ছ ভারত মিশন, রাজ্যের রাজস্ব, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সাংসদ-বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন টাকা ব্যবহারেরও ছাড়পত্র দিয়ে রেখেছে রাজ্য।



