নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও বারাসত: গোবরডাঙা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের মেয়েকে লাগাতার ধর্ষণ! অভিযুক্ত ওই পুরসভার কর্মী হীরক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগ, ওই ঘটনার পর সাহায্যের নাম করে সল্টলেকে তাঁকে ফের ধর্ষণ করেন বিপ্লব চক্রবর্তী নামে এক যুবক। এই অভিযুক্ত বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারর পুত্র! এই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল ছড়িয়েছে। যদিও সল্টলেকের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই বিধাননগর দক্ষিণ থানা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এখন জেল হেপাজতে। তবে, গোবরডাঙার অভিযুক্ত পুরকর্মী অধরা। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ‘নির্যাতিতা’র মা গোবরডাঙা পুরসভার তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার। অভিযোগ, ওই পুরসভার কর্মী হীরক বিশ্বাস তাঁকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি নিয়ে নির্যাতিতা গত ৯ অক্টোবর গোবরডাঙা থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বর্তমানে ওই তরুণী সল্টলেকের পূর্বাচল আবাসনে থাকছিলেন। সেখানেই আলাপ হয় বিপ্লব চক্রবর্তী নামে ওই যুবকের সঙ্গে। নির্যাতিতার মায়ের মতো বিপ্লরের মা’ও বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার! শুধু তাই নয়, তাঁর মা বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন বোরো চেয়ারম্যানও।
অভিযোগ, বিপ্লবের কাছে তিনি সাহায্যের জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু, সাহায্য দেওয়ার নাম করে প্রথমে আশ্বাস দেন তিনি। তারপরএকটি গেস্ট হাউসে নিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার পর নির্যাতিতা ভেঙে পড়েন। গত ১৬ অক্টোবর তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় গিয়ে বিপ্লবের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। পরদিনই দক্ষিণ থানার পুলিশ তাঁকে পূর্বাচল আবাসন থেকেই গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে প্রথমে ধৃতকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। ধৃত বিপ্লব পুলিশি জেরায় দাবি করেছিলেন, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে, তাঁর সেই বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ড শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তিনি জেল হেপাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গোবরডাঙার থানার মামলায় অভিযুক্ত পুরকর্মী হীরক পলাতক। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে। তার খোঁজে তল্লাশিও চলছে।



