দপ্তর ভিত্তিক খতিয়ান তৈরি করছে রাজ্য, সরকারি জমির হদিশ মিলবে এক ক্লিকেই
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের কোন দপ্তরের কোথায় কত জমি রয়েছে, এবার তার হদিশ মিলবে এক ক্লিকেই। সহজে সরকারি জমি চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি দখলদারি রুখতে জোড়া পদক্ষেপ করল নবান্ন। বর্তমানে প্রতিটি মৌজায় সরকারি দপ্তরগুলির জন্য পৃথক খতিয়ান থাকায় রাজ্যজুড়ে কোনো একটি দপ্তরের জমির হিসাব একত্রে করা বেশ কষ্টসাধ্য। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিজের জমির খতিয়ান নম্বরও জানে না। ফলে বিভিন্ন সময় রাজ্যের জমির তথ্যভাণ্ডারে জমির রেকর্ড খুঁজতে সমস্যায় পড়তে হয়। এই জটিলতা দূর করতে এবার মৌজাভিত্তিক একাধিক খতিয়ানের পরিবর্তে প্রতিটি সরকারি দপ্তরের জন্য পৃথক দপ্তরভিত্তিক খতিয়ান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন।

Advertisement

কয়েক দিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে সরকারি জমি দখল নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে আগের সরকারের আমলে সরকারি জমি বেদখল হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি জানিয়েছিলেন, এই ধরনের দখলদারি রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বার্তার পরই সরকারি জমির সুরক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বলে মত প্রশাসনিক মহলের। 
রাজ্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার রেভিনিউ অফিসারদের মাসে অন্তত একবার যে যাঁর এলাকায় পড়ে থাকা সরকারি জমি পরিদর্শন করতে হবে। পরিদর্শনের পর সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। কোনো জমির ক্ষেত্রে নির্ধারিত অবস্থার পরিবর্তন হলে কিংবা দখলদারি নজরে এলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট রেভিনিউ অফিসার বিষয়টি জানাবেন বিএলএলআরও-কে। অবিলম্বে জমি দখলমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে জেলা প্রশাসন। অর্থাৎ, সরকারি জমির উপর নিয়মিত নজরদারি এবং দখলদারি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ—দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান রাজ্য সরকার। 
এদিকে, সরকারি জমির হিসাব সহজ করতে দপ্তরভিত্তিক খতিয়ান তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে ভূমি দপ্তরের অধীন ডাইরেক্টরেট অব ল্যান্ড রেকর্ডস অ্যান্ড সার্ভেস। সরকারি জমির খতিয়ান নম্বর সাধারণত ১ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিচিতি যুক্ত করে নতুন খতিয়ান নম্বর নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে খবর। যেমন, পূর্ত দপ্তরের খতিয়ান নম্বর হওয়ার কথা রয়েছে ১/পিডব্লুডি এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের ক্ষেত্রে যা হতে পারে ১/ইউডিএমএ। একইভাবে সমস্ত দপ্তরের জন্য একটি করে খতিয়ান নম্বর তৈরি করা হবে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং বিভিন্ন বিএলএলআরও-কে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর বিএলএলআরও নিজেদের অধীন প্রতিটি মৌজায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জমি চিহ্নিত করে নতুন দপ্তরভিত্তিক খতিয়ানের আওতায় আনবেন।